শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
ভলিবল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ১৫ বিজিবি’র চোরাচালান ও মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, গরু এবং কসমেটিকস জব্দ সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ করালে নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে-মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি র‍্যাবের অভিযানে ২৯৮ বোতল এসকাফ উদ্ধারসহ ১জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ‎নির্বাচন পরবর্তী সময়েই সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে-ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি ১৫ বিজিবি’র চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় গরু এবং চিনি জব্দ ১৫ বিজিবি’র চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানে ভারতীয় মাদক এবং কসমেটিক্স জব্দ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, বিচার চাওয়ায় পিতাকে ছুরিকাঘাত ঢেঁড়স চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

অবাধে বিষপাতা তথা তামাক পাতার চাষ হচ্ছে!

আলোর মনি ডটকম ডেস্ক রিপোর্ট: লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে বিষপাতা তথা তামাক পাতার আবাদ হচ্ছে। এসব জমিতে আগে ধান ও ভুট্টা চাষ হতো। সিগারেট উৎপাদক কোম্পানীগুলোর প্রলোভনে পড়ে কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকছে। অথচ তামাক চাষ করতে গিয়ে জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক হারে তামাকের চাষ হচ্ছে। তিস্তা, ধরলা, রত্নাই নদীর তীর ঘেঁষা এসব চরাঞ্চলে বর্ষাকালে পলি পড়ে। উর্বর এসব জমিতে আগে মসুর, মাষকলাই, ধান, ভুট্টা, বাদাম, কাউন, গম, আলু, আখের চাষ হতো। কিন্তু অনেক জায়গায় কয়েক বছর ধরে তামাকের চাষ হচ্ছে। বহুজাতিক ও দেশীয় টোব্যাকো কোম্পানীগুলোর প্রলোভনে পড়ে কৃষকরা এই বিষপাতা তথা তামাক চাষে আগ্রহী হচ্ছে। কয়েকটি বিড়ি, সিগারেট ও জর্দা এবং গুল কোম্পানী তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। তারা স্থানীয় কৃষকদের অধিক মুনাফার পাশাপাশি সার, বীজ ও সেচের জন্য নগদ টাকা মূলধন (ঋণ) হিসেবে দিচ্ছে। নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় কৃষকরাও তামাক চাষে ঝুঁকছে।

 

কৃষকরা জানায়, তামাক চাষে প্রতি শতাংশ জমি বাবদ ৫কেজি সার ও প্রয়োজনমতো তামাক বীজ সরবরাহ করছে টোব্যাকো কোম্পানীগুলো।

 

এ থেকে শতাংশ প্রতি প্রায় ১হাজার টাকার তামাক উৎপাদন করা যায়। কম পরিশ্রমে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। জমি ও শরীরের ক্ষতি হলেও অধিক লাভের জন্যই তারা তামাক চাষ করছেন। এদিকে কোম্পানীগুলো তামাক চাষ বৃদ্ধিতে বীজ ও সার সরবরাহ করলেও স্বাস্থ্যহানী রোধে অ্যাপ্রোন বা মাস্ক সরবরাহ করছে না।

 

কৃষিবিদরা বলছেন, তামাকগাছ জমি থেকে বেশি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে। এতে মাটি দ্রুত উর্বররা শক্তি হারায়। পরবর্তী সময়ে ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদ করতে বেশি সার দিতে হয়। তামাকে নিকোটিন থাকায় এটি চাষে শারীরিকভাবেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

চিকিৎসকরা বলছেন, তামাক চাষ, তামাক পাতা শুকানো থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এমনকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছেন, সরকারি কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় তামাক চাষের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া যাচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে কৃষকদের নিরুৎসাহী করা হচ্ছে।

 

এ বছর লালমনিরহাট জেলায় ৩হাজার ৫শত ৫৫হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone