লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপদসীমার ৭সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষ আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ৫২দশমিক ২২মিটার (বিপদসীমা ৫২দশমিক ১৫মিটার) যা বিপদসীমার ৭সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির এ হার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। আগামী ২/৩ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুর্ণা, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু কাঁচা-পাকা সড়কে পানি উঠে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ঘন্টার বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। কিন্তু এক সপ্তাহে না যেতেই ফের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি আবার বাড়ছে।
এছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ রায় বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ রোববার সন্ধ্যা থেকে আবারও বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনদিনের মাথায় পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে।
এদিকে রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ২৯দশমিক ৫৩মিটার (বিপদসীমা ৩০দশমিক ৮৭মিটার) যা বিপদসীমার ১৩৪সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাটের ধরলা নদীর ভাঙনে মোগলহাট ইউনিয়ন ছাড়াও লালমনিরহাট সদর উপজেলার আরও ২টি (কুলাঘাট ও বড়বাড়ী) ইউনিয়নে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনিল কুমার রায় জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বাপাউবো ঢাকার সূত্র মতে, তিস্তা নদীর পানি সমতল সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি (২৮ জুন, ২০২৬): আজ সন্ধ্যা ০৬ টার তথ্য অনুযায়ী- তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল ৫২.২২ মি. যা বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপর অবস্থান করছে। বিগত তিন ঘন্টায় ১৯ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে।
উজানে ভারতের দোমুহুনি পয়েন্টের পানি সমতল ৮৫.৮৪ মি., বিগত তিন ঘন্টায় ০৩ সে.মি. হ্রাস পেয়েছে এবং গজলডোবা পয়েন্টের পানি সমতল ১০৯.৮০ মি., বিগত তিন ঘন্টায় ১৫ সে.মি. হ্রাস পেয়েছে।
তিস্তা নদীর পানি সমতল রাত ১০ টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে স্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে হ্রাস পেতে পারে।
অপরদিকে তিনি আরও জানান, রাত ১১টায় তিস্তা ব্যারেজের পানির ডেঞ্জার লেভেলঃ ৫২.১৫ মিটার। বর্তমানে পানির লেভেলঃ ৫২.২৩ মিটার।