সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ এবং গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান চোরাচালান ও মাদক বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির বিশেষ টহলদল ৩টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ করেছে। চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক বিরোধী অভিযানে বিজিবি’র দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল আনুমানিক ৫টায় বালারহাট বিওপি’র আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বালাটারী নামক স্থানে বিজিবি’র টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহজনক ব্যক্তিতে বাই সাইকেল যোগে আসতে দেখে টহলদল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে উক্ত ব্যক্তি বাই সাইকেল ফেলে দৌড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাই সাইকেলটি তল্লাশি করে ৫শত ৭৬টি মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেসহ জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০মিনিটে বুড়িরহাট বিওপি’র আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার খামারপাতি নামক স্থানে টহল পরিচালনাকালীন চোরাকারবারীর গতিবিধি টের পেয়ে টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। চোরাকারবারীদের ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৯৪টি বোতল উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, রোববার (৭ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫মিনিটে ঝাউরানী বিওপি’র আওতাধীন লালমনিরহাট জেলা হাতীবান্ধা থানার উত্তর ঝাউরানী এলাকায় টহলদল একজন চোরাকারবারীকে আসতে দেখে চ্যালেঞ্জ করলে সে মালামার ফেলে পালিয়ে যায়। উক্ত স্থানে তল্লাশি করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ২৫টি বোতল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৬টা ৩০মিনিটে অনন্তপুর বিওপি-সংশ্লিষ্ট কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার হাজিটারি নামক এলাকায় টহল পরিচালনাকালীন চোরাকারবারীদের গতিবিধি টের বিজিবি টহল দল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে উক্ত স্থানে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৫কেজি উদ্ধার করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ৫শত ৭৬টি, যার সিজার মূল্য ১২লক্ষ ৮৩হাজার ২শত টাকা, ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ১শত ১৯টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৪৭হাজার ৬শত টাকা এবং ভারতীয় গাঁজা ৫কেজি, যার সিজার মূল্য ১৭হাজার ৫শত টাকা/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ১৩লক্ষ ৪৮হাজার ৩শত টাকা। এছাড়া মাদক সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও স্থানীয় জনগণকে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গোপন তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
এই সফল অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার। মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।