শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
‎তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার ওপরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার ওয়াপদা বাঁধের বেহাল দশা: চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ধরলা নদী পাড়ের মানুষ গাছে গাছে জাম্বুরা ধরেছে খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে শিক্ষার আধুনিকায়নের ভিত্তি রচিত হয়েছে-মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ প্রসাধনী জব্দ; ২টি প্রতিষ্ঠানকে ১২হাজার টাকা জরিমানা মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৩ মামলায় ২হাজার ৫শত টাকা জরিমানা আদায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে হবে-মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি লালমনিরহাট জেলা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
‎তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার ওপরে

‎তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার ওপরে

লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বেড়ে বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী সংলগ্ন তিস্তা নদীর পাড়ের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

‎মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৩টায় লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল ৫২.১৬মিটার, (বিপদসীমা ৫২.১৫মিটার) যা বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‎নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ভারতের উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেছে। যদিও কয়েকদিন ধরে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি ছিল, মঙ্গলবার বিকালে তা অতিক্রম করে এরপর বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয় এবং পানি ক্রমাগত বাড়ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট সার্বক্ষণিক খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

‎ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তাপাড়ের হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম এখন নৌকা ও ভেলা। ঢলের পানিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত এবং মাছের পুকুরও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

‎তিস্তা নদী লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই পুরো জেলা জুড়ে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়। এবারের উজানের ঢলের কারণে জেলার ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা বন্যার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

‎এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে নদী সংলগ্ন প্রায় শতাধিক চরের মানুষের মাঝে। তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রনে রাখতে দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

লালমনিরহাটের উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের বাসিন্দা মোন্তাজ মিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‎​নদীপাড়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ইতিমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে রাতের মধ্যে ঘর-বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ার ভয় করছি। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

‎তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি আরও বেড়ে বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিতভাবে পরিস্থিতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও রাস্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছি।

‎লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ভারত থেকে আসা উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি মঙ্গলবার ভোর থেকে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তিস্তাপারের নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা। তাই এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

‎দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে শুকনা খাবার ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

‎​আগামী ২ থেকে ৩দিন উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৩টায় ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানির সমতল ২৯দশমিক ৮৯মিটার, (বিপদসীমা ৩০দশমিক ৮৭মিটার) যা বিপদসীমার ৯৮সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone