লালমনিরহাটে মিড-ডে মিলের পুষ্টিকর খাবারে বিদ্যালয় মুখী হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। টিফিনের সময়ে খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার।
গত বছরের পহেলা ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি একদিকে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
লালমনিরহাটের ২টি উপজেলায় চালু রয়েছে এ কর্মসূচি। পাটগ্রাম উপজেলার ১শত ৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫হাজার ৩শত ৫৬জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১শত ৬৫টি বিদ্যালয়ের ২২হাজার ৪৪জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে।
সপ্তাহের ৪দিনই শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বানরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট। পুষ্টিকর এসব খাবার শুধু শিশুদের খাদ্য:চাহিদাই পূরণ করছে না, ক্ষুধার কারণে ক্লাসে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতেও সহায়তা করছে।
কর্মসূচিটির অন্যতম লক্ষ্য- শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য- বিদ্যালয়ে এক বেলা পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে আসার আগ্রহও বাড়ছে।
লালমনিরহাট জেলায় এই প্রকল্পের কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ইকো সোশাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইএসডিএফ)।
পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, মিড-ডে মিলে নিয়মিত রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাচ্ছি। আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাস করতে কষ্ট হতো। এখন পেট ভরা থাকে, তাই সবগুলো ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করতে পারি।
একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে খাবার পাওয়ায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে ভালো লাগে। রুটি, ডিম, কলা ও দুধ খেতে খুব ভালো লাগে। আগে ক্লাসে অনেক সময় ক্ষুধা লাগত, এখন খাবার পাওয়ায় সেই কষ্ট হয় না।
আল মদিনা বেকারি এন্ড কনফেকশনারি উভয় উপজেলার বিদ্যালয়সমূহে বনরুটি সরবরাহের দায়িত্বপালন করছে।
প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী খলিলুর রহমান জানান, বনরুটির গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের বেকারিতে নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট এবং ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিদিন রুটির মান পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার পন্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, পূর্বে শিশুদের ক্ষুধার্ত থেকে ক্লাস করতে হতো। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হতো বলে তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিতির প্রতি অনীহাবোধ করতো। এখন তাজা রুটি, কলা, ডিমসহ দুধ ও বিস্কুটের ব্যবস্থা থাকায় তাদের ক্লাসে উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষুধার ক্লান্তি না থাকায় এবং পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ক্লাসেও তাদের মনোযোগ বেড়েছে।
ইএসডিএফ-এর স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল বলেন, সরকারের এই প্রকল্পটিকে আমাদের সংস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত তদারকি করছি যেন সঠিক মানের খাবারগুলো শিশুদের কাছে পৌঁছানো যায়।
পাটগ্রাম উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, ক্লাসের বিরতিতে এক বেলা পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পাটগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিগত বছরের তুলনায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও বেশ ইতিবাচক। খাবারের তালিকায় বনরুটি, কলা ও ডিম যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি তাদের পুষ্টি নিশ্চিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।