লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ক্লিনিক পরিচালককে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৭মিনিটে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ‘নিউ রূপসী বাংলা’ ক্লিনিকের পরিচালক ইউসুফ আলী (৪০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ইউসুফ আলী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চনশর গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রীর প্রতিবেশী। গত ২০ আগস্ট ঐ ছাত্রীর ৬মাস বয়সী ছোট ভাই অসুস্থ থাকায় তার মা চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট যায়। ঐ ছাত্রী বাড়িতে একা থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ইউসুফ বাড়িতে ঢুকে শিশুটিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ইউসুফ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঐ ছাত্রীর মা লালমনিরহাট থেকে বাড়িতে ফিরে আসে এবং চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রীকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এই ঘটনায় গত ২১ আগস্ট ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪০)। ঘটনার পরে থেকেই আসামি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর ৩টা ২০মিনিটে সময় লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন চাপারহাট চব্বিশ হাজার গ্রামের এরশাদ আলীর বসতবাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে কালীগঞ্জ থানার আলোচিত শিশু ধর্ষন মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইউসুফ আলী (৪০) কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, বলাৎকারের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।