শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
জিরামপুর কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন হামলার শিকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার প্রধান আসামীর মৃত্যুদণ্ড তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত ১১কেজি গাঁজাসহ ৪জন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ১৫ বিজিবি’র অভিযানে ১লক্ষ ২হাজার ৮শত টাকার ইস্কাপ সিরাপ জব্দ হামলার শিকার শিক্ষক আরিফুলের মৃত্যুতে গন্ধমরুয়া গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম বিসিবির স্টান্ডিং কমিটির সদস্য হলেন মাহফুজ এভিন বৃক্ষরোপণ ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান অনুষ্ঠিত অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার শিক্ষক আরিফুলের মৃত্যু জুয়ার প্রতিবাদে হামলার শিকার শিক্ষক আরিফুলের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, আসামিদের ৭ বাড়িতে ভাংচুর ও আগুন
আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার প্রধান আসামীর মৃত্যুদণ্ড

আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার প্রধান আসামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটের আলোচিত ৭বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে, ৬মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫বছর করে কারাদণ্ড ও ৫হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা। হত্যার শিকার নন্দিনী রায় একই গ্রামের নলনী মোহনের মেয়ে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকেলে নিখোঁজ হন স্কুল পড়ুয়া শিশু নন্দিনী রায় (৭)। পর দিন তার বাড়ির পেছনের ভুট্টাক্ষেতের নরম মাটি দেখে সন্দেহ হলে তা খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সন্দেহ থেকে স্থানীয়রা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে ধরে পুলিশে দেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিধান চন্দ্রের বাড়ি আগুনে পুড়ে দেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৩৫জন পুলিশ আহত ও জেলা প্রশাসকসহ ৫টি গাড়ি ভাংচুর করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

এ ঘটনায় গত ১৬ জুন নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে বিধান চন্দ্রকে প্রধান করে তার বাবা রণজিৎ কুমার মা মমতা রানীকে অভিযুক্ত করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিধান চন্দ্র হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় পলাতক থাকা বিধানের মা মমতা রানীকেও গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মামলাটি তদন্ত শেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মোঃ আইয়ুব তুহিন গত ১৩ আগস্ট আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর গত ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। হত ১৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট ৩দিনে এ মামলার ২৩জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। পরে মাত্র ৬ কার্যদিবসে ২৩ আগস্ট আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বলেন, ন্যায় বিচার পেয়েছি। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানাই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনায় বিধান আদালতকে জানান, কয়েক বছর আগে তার মা মমতা রানী অন্যের সংসারে যাওয়ায় তাকে ডিভোর্স দেন তার বাবা রণজিৎ কুমার। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন রণজিৎ। কিন্তু কিছুদিন পরে বিধান আলোচনা করে মাকে তাদের সংসারে ফিরিয়ে আনেন। এতে ওই সমাজ থেকে তাদের একঘরে করা হয়। যা নিয়ে নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহনের সঙ্গে তাদের ঝগড়া বিবাদ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন বিধান চন্দ্র। সেই ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে নলিনীর পরিবারের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। দীর্ঘ এক বছর আগের ঝগড়ার ক্ষোভ মেটাতে কিছুদিন আগে নন্দিনীর বড় ভাই যোতিষ্ঠিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের কারণে সেটা করতে ব্যর্থ হন বিধান।

প্রতিশোধের দ্বিতীয় পরিকল্পনা মোতাবেক সোমবার বিকেলে নন্দিনী ও অপর এক শিশুকে নিয়ে বাড়ির উঠানে মোবাইল ফোনে টিকটক দেখছিলেন বিধান। এরপর অপর শিশুটি চলে গেলে তার মোবাইল ফোনে চার্জ শেষ হয়। তখন ফোনে চার্জে দিয়ে বিস্কুট মুখে দিয়ে আবার উঠানে আসেন বিধান। এ সময় নন্দিনী বিস্কুট চাইলে তাকে বিস্কুট দিতে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। এরপর নন্দিনীকে বিস্কুট খাইয়ে গলা টিপে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে রাখেন বিধান।

জবানবন্দিতে বিধান জানান, প্রথমে নিজেদের বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। স্থানীয়রা কি করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ছাগল মারা গেছে, তা পুঁতে রাখছেন। কিন্তু দুর্গন্ধ হবে বলে স্থানীয়রা তাকে বাঁধা দেন। পরে তিনি নন্দিনীর বাড়ির পেছনের ভুট্টা ক্ষেতে গর্ত করেন এবং বিকেল ৫টার পরেই নন্দিনীর বাড়ির সামনে দিয়ে তারই বস্তাবন্দি মরদেহ নিয়ে ওই গর্তে পুঁতে রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone