লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বালারহাট ও দিঘলটারী বিওপির টহলদল পৃথক ২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ মোটর সাইকেল জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বালারহাট বিওপির অধীনস্থ কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার মাদ্রাসা মোড় নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটর সাইকেলযোগে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ২টি বোতলসহ মাদকদ্রব্য বহনে ব্যবহৃত ১টি (হোন্ডা ২০০সিসি) মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, একই দিন সকাল ১০টায় দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার কাউয়ার চর নামক স্থানে অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আসতে দেখে তার গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারি তার সাথে থাকা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫টি বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৪৭টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১৮হাজার ৮শত টাকা, হোন্ডা ২০০সিসি মোটর সাইকেল ১টি, যার সিজার মূল্য ৩লক্ষ ১৫হাজার টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৩লক্ষ ৩৩হাজার ৮শত টাকা। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদক পাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।