লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় নেশা জাতীয় ফেন্সিডিল ও ফেয়ারডিল এবং ইস্কাফ সিরাপ জব্দ হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ৩টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় নেশা জাতীয় ফেন্সিডিল ও ফেয়ারডিল এবং ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১২টা ৪০মিনিটে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার পূর্ব আমঝোল এবং রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪৫মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার পূর্বটারী ও একই তারিখ রাত ৮টা ৪৫মিনিটে মোগলহাট বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার কর্ণপুর নামক স্থানে ৩টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় ফেন্সিডিল ২শত ৯৩টি বোতল ও ফেয়ারডিল সিরাপ ৫০টি বোতল এবং ইস্কাফ সিরাপ ১শত ৭১টি বোতল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ফেন্সিডিল ২শত ৯৩টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ১৭হাজার ২শত টাকা, ফেয়ারডিল সিরাপ ৫০টি বোতল, যার সিজার মুল্য ২০হাজার টাকা এবং ইস্কাফ সিরাপ ১শত ৭১টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৬৮হাজার ৪শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২লক্ষ ৫হাজার ৬শত টাকা। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদক পাচার এবং যে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।