লালমনিরহাটে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, মাদক, জুয়া ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধিগুলো গ্রামীণ সমাজ ও পারিবারিক কাঠামোর ভিত নষ্ট করে দিচ্ছে। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং একটি আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করলো আলোকিত লালমনিরহাট কর্মসূচি।
সামাজিক অপরাধ নির্মূলের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ৭ জোড়া বর-কনের যৌতুকবিহীন বিবাহের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
সামাজিক অপরাধগুলোর ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কুসংস্কার ও অপরাধ গুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। মাদকের ছোবল যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা পারিবারিক শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি আরও বলেন, একটি আলোকিত ও সমৃদ্ধ লালমনিরহাট গড়তে হলে দলমত নির্বিশেষে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যৌতুকের মতো বৈষম্যমূলক প্রথা পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে, যা থেকে সমাজকে রক্ষা করতেই মন্ত্রী এই যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজনকে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপির সহধ-র্মিণী মিসেস লায়লা হাবিব, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান ও তাঁদের সহ-ধর্মিণীগণসহ বর-কনের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির ধারাবাহিকতায়, আগামীকাল বিকেলে লালমনিরহাট শহরের এমটি হোসেন ইন্সটিটিউট মাঠ থেকে আলোকিত লালমনিরহাট কর্মসূচির একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। র্যালিটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলার প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে এসে শেষ হবে। সেখানে সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।