লালমনিরহাটে লালতীর বীজ কোম্পানীর হাইব্রিড গাজরের মানহীন বীজ কিনে বিপাকে ১৮জন কৃষক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি কৃষকেরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, লালমনিরহাট সদর উপজেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা বরাবরে লালতীর বীজ কোম্পানীর গাজর চাষে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রসঙ্গে লালমনিরহাট সদরের মোগলহাটের ফুলগাছ ব্লকের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে মোঃ শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র জমা দেন কৃষকেরা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, আমরা লালমনিরহাট সদর উপজেলাধীন মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ ব্লকের চাষীগণ। বিগত রবি মৌসুমে আমরা গাজর চাষের উদ্দেশে “লালতীর” কোম্পানীর হাইব্রিড গাজর বীজ ২৭,৭০০/- (সাতাশ হাজার সাতশত) টাকা কেজি মূল্যে “খান সীড” দোকান হইতে ক্রয় করি। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করা সত্যেও গাজর আশানুরুপ ফলন হয়নি। উক্ত কারণে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এমতাবস্থায়, আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ সরেজমিনে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে “লালতীর” বীজ কোম্পানীকে অবগত করে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, উক্ত বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি লাঘবে আপনার সদয় মর্জি হয়।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত গাজর চাষীরা হলেন- লালমনিরহাটের মোগলহাট ইউনিয়নের ভাটিবাড়ী গ্রামের শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, শাহ জালাল, আব্দুস সোবাহান, ইসমাইল হোসেন, স্বপন আলী, মোজাম্মেল হক। কোদালখাতা গ্রামের বাদশা মন্ডল, রুবেল ইসলাম রাজু, ইউসুফ আলী। ফুলগাছ গ্রামের আব্দুল জলিল, শফিকুল ইসলাম, নুর বাদশা, কাকেয়াটেপা গ্রামের শাহিনুর ইসলাম, ওসমান গনি, রেজাউল ইসলাম। লালমনিরহাট পৌরসভার কোরবানটারী গ্রামের আব্দুর রহিম। যথাক্রমে গাজর লালতীর জাতের ৯কেজি ৩০০গ্রাম বীজ ক্রয় করে। যাঁর বাজার মূল্য ২লক্ষ ৫৭হাজার ৬শত ১০টাকা। রোপণকৃত জমির পরিমাণ ৮একর ৯৯শতাংশ।
উক্ত লালতীর কোম্পানীর হাইব্রিড গাজর বীজ কিনে রোপন করে সর্বনাশ হয়েছে কৃষকেরা।
ভেজাল বীজ কিনে লালমনিরহাটের মোগলহাট ও পৌরসভার ১৮জন কৃষকের প্রায় ৯একর জমির গাজর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
সরেজমিন ভাটিবাড়ী, কোদালখাতা, ফুলগাছ, কাকেয়াটেপা, কোরবানটারী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জমি ঘুরে দেখা গেছে, সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করা সত্যেও গাজর আশানুরুপ ফলন হয়নি।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯জন কৃষক রোববার (১১ জানুয়ারি) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, লালমনিরহাট সদর উপজেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ শাহজালাল জানান, ডিলারের কাছ থেকে সরল মনে লালতীর কোম্পানীর হাইব্রিড গাজর বীজ কিনে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি।
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, এলাকায় অসংখ্য কৃষক ভেজাল গাজর বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার ও বীজ কোম্পানীর বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ওই এলাকায় দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, আমরা এলাকায় গিয়ে কৃষকের মাঠ ঘুরে দেখেছি।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ এ বিষয়ে তদন্ত করে সুষ্ঠ সমাধানের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গাজর চাষীদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন মর্মে জানা গেছে।