লালমনিরহাটের কৃষকেরা আগাম জাতের আলু চাষ করে হাট-বাজারে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইতিমধ্যেই আগাম জাতের নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। এবার আগাম জাতের আলুর দাম তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো, তাতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। খুচরা হাট-বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫টাকায় কিনে এনে খুচরা হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছেন ২৫-২৮ টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করছেন প্রতি কেজি আলু ৩০-৩৫টাকায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, আগাম আলুসহ চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ৬হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে আলুর চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগাম জাতের আলু হেক্টর প্রতি ১৭মেট্রিক টন এবং মৌসুমী আলুর প্রতি হেক্টর জমিতে ২৮.৫ থেকে ২৯টন উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।
আলু চাষীরা বলেন, আগাম আলুর রোগ বালাই কম হয়। সেই সাথে হাট-বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়। তাই আগাম আলু চাষ করেছি ভালো দামের আশায়।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, আলু চাষের জন্য আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় আগাম ধান কর্তনের পর কৃষকেরা আলু চাষ আবাদ শুরু করেন। চলতি বছর লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ৩হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ২৮.৫ থেকে ২৯ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন জানান, আগাম আলু চাষের জন্য এ উপজেলার জমি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় আগাম ধান কর্তনের পর এখানকার কৃষকেরা এক খন্ড জমিও ফেলে রাখে না। এ ছাড়া বছরের পর বছর যে জমিগুলো পতিত থাকতো গত কয়েক বছর থেকে সে জমিগুলোতে আগাম জাতের আলু চাষ করে ইতিমধ্যে বিপ্লব ঘটিয়েছে এখানকার কৃষকেরা।