লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)র বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেসহ ১জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুলাঘাট বিশেষ ক্যাম্প এর চেক পোষ্টে সফল অভিযান পরিচালনা করে সীমান্ত হতে অবৈধভাবে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসেপ্লেসহ ১জন আসামী আটক করতে সক্ষম হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, সীমান্ত হতে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেসমূহ গোপনে ষ্টোর করে রাখা হয়েছে কুলাঘাট চেক পোষ্ট ব্যবহার করে উক্ত পণ্যসমূহ পাচার করা হবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিটে চেক পোস্টে সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ইজিবাইক যোগে আসতে দেখে চ্যালেঞ্জ করে। পরবর্তীতে বিস্তারিত তল্লাশি করে গাড়ির ভেতরে থাকা ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ১হাজার ৪৮টি এবং ইজিবাইকে যাত্রী সেজে থাকা উক্ত মালামাল চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার কবির মামুদ গ্রামের মোঃ লুৎফর রহমানের ছেলে মোঃ সোহাগ হোসেন (২৭) কে আটক করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ১হাজার ৪৮টি, যার সিজার মূল্য ২২লক্ষ ৮শত টাকা। উল্লেখিত ঘটনায় আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়েরপূর্বক মালামালসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, পণ্য চোরাচালান জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে দেশীয় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়, সরকার তার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধমূলক চক্র সক্রিয় হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছে। সীমান্তে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি তার অপারেশনাল কর্মকান্ড অব্যাহত রাখছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।
এই সফল অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার। চোরাচালান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।