আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রকাশ্য প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ার পর পরই লালমনিরহাট জেলার তিনটি আসনে প্রার্থী ও সমর্থকেরা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ের তথ্য ও ভোটারদের মতামত বলছে-একটি আসনে কোন পক্ষ স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও বাকি দুটি আসনে সমানে সমান বা ত্রিমুখী লড়াইয়ের চিত্র তৈরি হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের তিনটি আসনে মোট ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান লড়াই ঘুরছে বিএনপি ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের ঘিরে।
১৬, লালমনিরহাট-০১ (পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা): এটি লালমনিরহাট জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা ২টি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-১ আসনটি। জাতীয় সংসদের ১৬তম আসন এটি। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪লাখ ৩হাজার ৫শত ৬৩জন। নারী ভোটার ২লাখ ৮শত ৫৯জন ও পুরুষ ভোটার ২লাখ ২হাজার ৭শত ২জন এবং হিজরা ভোটার ২জন।
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মোঃ হাসান রাজীব প্রধান (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (দাঁড়িপাল্লা) এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
এদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গা (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ ফজলুল করিম শাহারিয়ার (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোঃ শুভ আহমেদ (আনারস), বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের হাবিব মোঃ ফারুক (মটরগাড়ি কার), স্বতন্ত্র আবু সামা মোঃ রেদওয়ান হক (তালা), মোঃ রেজাউল করিম সরকার (মোটরসাইকেল), শিহাব আহমেদ (ঘোড়া) প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৭, লালমনিরহাট-০২ (কালীগঞ্জ, আদিতমারী): এটি লালমনিরহাট জেলার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ ২টি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনটি। জাতীয় সংসদের ১৭তম আসন এটি। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪লাখ ৩২হাজার ৯শত ৬৩জন। নারী ভোটার ২লাখ ১৫হাজার ৭শত ৫৮জন ও পুরুষ ভোটার ২লাখ ১৭হাজার ২শত ২জন এবং হিজরা ভোটার ৩জন।
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মোঃ রোকন উদ্দীন বাবুল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ ফিরোজ হায়দার (দাঁড়িপাল্লা) ও জনতার দলের মোঃ শামীম কামাল (কলম) এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
এদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির মোঃ এলাহান উদ্দিন (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নিমাই চন্দ্র রায় (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মাহফুজুর রহমান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র মোঃ মমতাজ আলী (মোটরসাইকেল) প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৮, লালমনিরহাট-০৩ (লালমনিরহাট সদর): এটি লালমনিরহাট জেলার সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। লালমনিরহাটের সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-৩ আসনটি। জাতীয় সংসদের ১৮তম আসন এটি। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩লাখ ৭হাজার ৯শত ৭০জন। নারী ভোটার ১লাখ ৫৩হাজার ৮শত ৫জন ও পুরুষ ভোটার ১লাখ ৫৪হাজার ১শত ৬৩জন এবং হিজরা ভোটার ২জন।
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আবু তাহের (দাঁড়িপাল্লা) এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
এদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির মোঃ জাহিদ হাসান (লাঙ্গল), গণসংহতি আন্দোলনের দীপক কুমার রায় (মাথাল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধু সুদন রায় (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাট জেলার ১৬, লালমনিরহাট-০১ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১শত ৩৭টি। কক্ষের সংখ্যা ৭শত ৮১টি।
এছাড়া ১৭, লালমনিরহাট-০২ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১শত ৫৫টি। কক্ষের সংখ্যা ৮শত ২০টি।
এছাড়াও ১৮, লালমনিরহাট-০৩ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯৪টি। কক্ষের সংখ্যা ৫শত ৯৫টি।
এ নির্বাচনে লালমনিরহাটের ৩টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ১১লক্ষ ৪৪হাজার ৪শত ৯৬জন। চূড়ান্ত ভোট কেন্দ্র ৩শত ৮৬টি ও কক্ষ ২হাজার ১শত ৯৬টি।