শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
হাত বদলে বাড়ে সবজির দাম; বঞ্চিত হন চাষিরা স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, ধর্ষকের যাবজ্জীবন ও ২লক্ষ টাকা জরিমানা ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নারী কৃষক দলের নেতৃত্বে সিআরএসএ মডেল জোরদারকরণের লক্ষ্যে সোলার পাম্প বিতরণ অনুষ্ঠিত সারের দাবিতে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ, ডিলার ও মাঠকর্মী অবরুদ্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক সংগীত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকদের সঠিক দায়িত্ব পালন ও স্কুলে সিসি ক্যামেরা নিশ্চিত করতে হবে-মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ১৫ বিজিবি’র অভিযানে ২লক্ষ ৬৯হাজার ৫শত টাকার ভারতীয় গাঁজাসহ ইজিবাইক আটক পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত যুবদল নেতা এম এ হালিম স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

দিনটি ছিলো সাংবাদিকদের জন্য চরম লজ্জ্বার

আহমেদ আবু জাফর: কোথাও সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা-মামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রতি ১০জনের ৩জন সরাসরি অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করে থাকেন। আর ওই ৩জনই রাক্ষুসে সাংবাদিক। একজন সাংবাদিককে ফাঁসাতে রাক্ষুসেরা তাৎক্ষনিক কোমড় বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন। ওখানকার বাকি ৭জন সাংবাদিককে নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে ঘটনা প্রতিষ্ঠিত করতে জানপ্রাণ উজার করে দিতে পেঁছপা হন না। এদেরকে চিহ্নিত করাও সময়ের দাবি।

 

যেমনটি লালমনিরহাটের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনের ঘটনায়ও তা ব্যত্যয় ঘটেনি। ওখানকার সাংবাদিকদের ফেসবুক, ফোনালাপ, ম্যাসেঞ্জার দেখলেই তা সহজেই অনুমেয় হবেন। কতটা উৎসাহী ছিলেন রাক্ষুসে সাংবাদিকরা। খোদ আমাকেই তাদের পক্ষের ক’জন ফোনে শাহীনের বিরুদ্ধে নানামূখী কথা বলে আমাদের অবস্থান থেকে সরাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএমএসএফ একটা ইথিকসে কাজ করে। সেটি শতভাগ বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকের পাশে থাকা। আমরা তেমনটি পাশে থেকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে এগিয়ে থাকি।

 

তবে মূলকথা হলো; ঐ ক্যাম্প কমান্ডার আনোয়ার আগ থেকেই শাহীনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। যেটি শাহীনের ফেসবুক ওয়ালে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ধরলা নদীর মাটি কেটে বাংলাদেশের মানচিত্র ভেঙ্গে ভারতে চর জাগছে শাহীন এ বিষয়ে অগনিত প্রতিবেদন করেছিলেন। সম্প্রতি ঐ মাটি ও বালু খেকোদের দৌরাত্মের খবর সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে কলেজের এক সহকর্মীকে নিয়ে রাতের আঁধারে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলের ভিডিও-চিত্রধারণ করে ফিরছিলেন।

 

পথিমধ্যে দেখা মেলে ওই জমদূত ক্যাম্প ইনচার্জ আনোয়ারের সাথে। এই আনোয়ারের অনিয়মের তথ্য উর্ধ্বতন অফিসারের কাছে এক সময়ে জানিয়েছিল শাহীন। ফলে তাকে ভৎসনা করেছিল উপরস্থ অফিসার। ঐদিনের ক্ষোভের জ্বাল মেটাতে লকডাউনের জালে রাত ৯টার দিকে পথিমধ্যে আটকা পড়ে গেলেন শিক্ষক-সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীন। তাৎক্ষণিক কমান্ডার আনোয়ার বিষয়টি স্থানীয় দু’জন রাক্ষুসে সাংবাদিককে ফোনে সমর্থন নিয়ে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাস্তায় শাহীনের হাতে-কোমড়ে দড়ি বেঁধে ফেলে পকেটে একবোতল ফেনসিডিল ঢুকিয়ে দূর্বল করে ফেলেন। সাথে থাকা অপর কলেজ সহকর্মীকেও দূর্বল করতে তাকেও টুকটাক মারধর করা হয়।

 

গভীর রাত অবধি রাস্তায়-গাড়িতে নির্মম-নির্যাতন চালিয়ে তাকে নিয়ে আসা হয় থানায়। সেখানে আহতবস্থায় পূরো ঘটনা পুলিশ-সাংবাদিকদের সামনে ভিডিওচিত্রে তুলে ধরেন শাহীন। থানায় একবোতল ফেনসিডিল, হাতকড়া, কোমড়ে ও হাতে দড়ি বাঁধাবস্থায় ফটোশেসনে বাধ্য করেন বিজিবি।

 

গতকাল সাংবাদিক শাহীনের সাথে বিজিবিকান্ডে হতবাক হয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের আইডি থেকে মাদকদ্রব্যসহ আটককৃতদের ছবি চাওয়া হয়। তাতে দেশের প্রায় দুই শতাধিক থানার মাদকদ্রব্যসহ ছবি পাওয়া যায়। তাতে লক্ষ, কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হলেও কোন আসামিকে দড়ি বেঁধে ফটোশেসনে দেখা যায়নি। এতে গোটা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা স্তব্ধ, লজ্জ্বিত, ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত। তাই ১৬ এপ্রিল দিনটাকে সাংবাদিকদের লজ্জা দিবস হিসেবে আমরা ঘোষণা করতে চাই।

 

খোদ বাংলাদেশ সরকারের গণমাধ্যম বাসস এবং প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও একটি এমপিওভুক্ত কলেজের প্রভাষকের সাথে এরুপ আচরণে পুরোঘটনা সাজানো তা বোঝার একটুও বাকি রইলোনা।

 

তাই সরকারের বিশ্বস্থ সংস্থা বিজিবির ভাবমূর্তি ও সাংবাদিকদের ইজ্জ্বত রক্ষায় পুরো ঘটনাটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

 

লেখক: আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ ও সমন্বয়কারি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone