লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ ও ফেয়ারডিল সিরাপ এবং গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ৩টি বিওপির টহলদল পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ ও ফেয়ারডিল সিরাপ এবং গাঁজা জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ২০মিনিটে বালারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বালাটারী এবং রাত ৩টা ২০মিনিটে ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার উত্তর ঝাউরানী ও বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৫০মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বিদ্যাবগীস নামক স্থানে পৃথক ৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বালারহাট বিওপির এলাকা থেকে ভারতীয় গাঁজা ১৫.৫কেজি, ঝাউরানী বিওপির এলাকা হতে ইস্কাপ সিরাপ ৯৯টি বোতল এবং গংগারহাট বিওপির এলাকা হতে ফেয়ারডিল সিরাপ ৮১টি বোতল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় গাঁজা ১৫.৫কেজি, যার সিজার মূল্য ৫৪হাজার ২শত ৫০টাকা, ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৯৯টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৩৯হাজার ৬শত টাকা এবং ফেয়ারডিল সিরাপ ৮১টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৩২হাজার ৪শত টাকাসহ জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের সর্বমোট সিজার মূল্য ১লক্ষ ২৬হাজার ২শত ৫০টাকা। এছাড়াও, চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদক পাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।