লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত স্ত্রীর গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপের পর আমেনা হত্যা মামলার সকল আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৩০মিনিটে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামন লালমনিরহাটের আদিতমারী খাতাপাড়া মাজার এলাকাবাসীর আয়োজন এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত আমেনার মা জাহানারা বেগম, নানা লোকমান হাকিম, ভাই জাকির হোসেন, এলাকাবাসী মহুবার রহমান, আওয়াল ইমন, স্বপ্না রাণী রায়, লালমনিরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি স্বপ্না আক্তার, সাধারণ সম্পাদক নাসিমা ইয়াসমিন প্রমুখ। এ সময় নিহত আমেনার পরিবার, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া এলাকার মৃত আমিনুর ইসলামের মেয়ে আমেনা খাতুনকে বিয়ের পর থেকেই শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এর একপর্যায়ে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেওয়া হয়। এসিডের কারণে ওই স্থানে পরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আমেনার ওপর চালানো এই অমানবিক নির্যাতন কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। বক্তারা দ্রুত প্রধান আসামি আফজাল হোসেন আপনসহ সব আসামিকে গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবি জানান।
নিহতের ভাই জাকির হোসেন জানান, ৯বছর আগে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁর ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে আমেনার শয়নকক্ষে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেয় স্বামী আফজাল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও দীর্ঘ ৯বছরেও বিচার শেষ হয়নি। মামলার প্রধান আসামির মা আছিয়া বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর বিচার চেয়ে নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
নিহতের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এসিডের কারণে গোপন অঙ্গে ঘা হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সে কষ্ট পেয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে গত ১২ আগস্ট তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই আমার মেয়ে মারা যায়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব সজিব জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য যে, বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আমেনা খাতুন (২৮) দীর্ঘ ৯বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মৃত্যু বরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রধান আসামির গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে এলাকাবাসী।