লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোড়কমন্ডল এবং মোগলহাট বিওপির টহলদল পৃথক ২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ মোটর সাইকেল এবং বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪০মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার পূর্বটারী নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালে টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটর সাইকেলযোগে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে উক্ত ব্যক্তি মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোটর সাইকেলটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২টি বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ ১টি হোন্ডা (১১০ সিসি) মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, একই দিন দুপুর ২টায় মোগলহাট বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার কুমারটারী নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহল দলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে উক্ত চোরাকারবারীরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৬২টি বোতল, যার সিজার মূল্য ২৪হাজার ৮শত টাকা ও হোন্ডা (১১০ সিসি) মোটর সাইকেল ১টি, যার সিজার মূল্য ৯০হাজার টাকা এবং ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মালামাল, যার সিজার মূল্য ১৭হাজার ৭শত ৪০টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ১লক্ষ ৩২হাজার ৫শত ৪০টাকা। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।