লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনোর প্রতিবাদ করায় মোঃ আরিফুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে। হামলার পর প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া (সিঙ্গমারী) এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
এ ঘটনায় ৬জন অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ ১০জনের নাম উল্লেখ করে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় মামলা করেছে ঐ শিক্ষকের বাবা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া (সিঙ্গমারী) এলাকার রহিদুল ইসলাম ও হাসান আলী, মাসুদ আলী, অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনোর একটি গ্রুপ পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের মাধ্যমে এলাকার অনেকেই জুয়ায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সচেতন নাগরিক হিসেবে ওই যুবকদের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো থেকে বিরত থাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিষেধ করে আসছিলেন। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার (১ আগস্ট) কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ৬জন কথিত জুয়া-ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ ১০জনের নাম উল্লেখ করে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় মামলা করেন।
আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার ছেলের অবস্থা ভালো নয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। গত ৮দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এখনও জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। মামলা করার ৭দিন পার হলেও পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তা নথিভুক্ত করা হয়। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।