লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুল ইসলাম (২৫) এর মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমজাদ হোসেন বাদীয় হয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় অজ্ঞাতনামাদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৯টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রমজান আলী।
নিহতের পরিবার, বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোর রাতে খাদেমুল ইসলামসহ কয়েকজন বাংলাদেশি গরু পারাপারকারী রাখালরা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তের মেইন পিলার ৯০৫ এর ৬ নম্বর সাব পিলারের শূন্যরেখা থেকে প্রায় দেড়শ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় ভারতের জলপাইগুড়ি রানীনগর-৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শীতলকুচি পাগলামারী বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। বিএসএফের গুলিতে আহত খাদেমুলকে অপর সহযোগীরা উদ্ধার করে রংপুরের ডক্টরস ক্লিনিকে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। পরে খাদেমুলের মরদেহ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তের আমঝোল এলাকার বাড়ীতে নেয়া হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। এরপর হাতীবান্ধা থানা পুলিশ খাদেমুল ইসলামের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
হাতীবান্ধা থানার এসআই মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন, নিহত খাদেমুল ইসলামের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকরার সময় মাথার বাম পাশে, বাম হাতে, বুকের বাম দিকে ও পিঠের বাম দিকে গুলির ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায়। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনেও গুলিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের বাবা আমজাদ হোসেনের দায়ের করা হত্যা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রমজান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুল ইসলামের বাবা আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরের পর পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক খাদেমুল ইসলামের ঘটনায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়াপ্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহবান করে পত্র পাঠানো হলেও শুক্রবার সন্ধ্যা (১৫ মে) পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেয়নি।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র বনচৌকি বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল মান্নান বলেন, এই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, সীমান্তে যেন আর কেউ অবৈধভাবে না যায়। কেননা বিএসএফ এখন পাখি শিকারের মতো গুলি করে বাংলাদেশি মানুষ হত্যা করছে। আর যেন কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়।