লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চোরাচালান ও মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাফ ও ফেয়ারডিল সিরাপ এবং চিনিসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ঝাউরানী ও মোগলহাট বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাফ ও ফেয়ারডিল সিরাপ এবং চিনিসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অন্যান্য মালামাল চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৩টায় ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার বরদুল এবং মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিটে মোগলহাট বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার চরফুলিমারী নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১শত ১০টি বোতল, নেশা জাতীয় ফেয়ারডিল সিরাফ ৩৬টি বোতল এবং চিনি ৪৩কেজিসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল (ভিবেল মিনি সাবান ১২টি, মিনি আচার ২শত ৩৪টি পাতা, মাদার ক্যান্ডি বোকরা ২ কৌটা, খৈনী জর্দ্দা ৪ প্যাকেট, সনপাঁপড়ি ১শত ৪২টি প্যাকেট) জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১শত ১০টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৪৪হাজার টাকা, ফেয়ারডিল সিরাপ ৩৬টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১৪হাজার ৪শত টাকা, চিনি ৪৩কেজি, যার সিজার মূল্য ৬হাজার ৪শত ৫০টাকা এবং বিভিন্ন প্রকার মালামাল ৪হাজার ৪শত ৮২টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৬৯হাজার ৩শত ৩২টাকা। এছাড়াও চোরাচালান ও মাদক পাচার চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা চোরাচালান ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।