সীমান্তে লালমনিরহাট (১৫ বিজিবি)’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ও গরু জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির বিশেষ টহলদল ২টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাফ ও গরু জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৪০মিনিটে রামখানা বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ফেরেশতার পাট নামক স্থানে বিজিবির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি লক্ষ্য করে টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ৫৫টি বোতল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার মাছানকুরা নামক স্থানে টহল পরিচালনার সময় ভারতীয় সীমান্ত দিক থেকে গরুসহ কয়েকজন চোরাকারবারী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারীরা গরু ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ৫৫টি বোতল, যার সিজার মূল্য ২২হাজার টাকা এবং ভারতীয় গরু ১টি, যার সিজার মূল্য ৬০হাজার টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৮২হাজার টাকা। এছাড়াও মাদক ও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই সময়ে যাতে কোন ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে।