লালমনিরহাটে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সিনিয়র সাংবাদিক গোকুল চন্দ্র রায় (৮০) নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে প্রতিবেশী যিতিন্দ্রনাথ বর্মনের ছেলে অনিমেশ বর্মন (২৮) কে আটক করেছে।
হামলার শিকার সিনিয়র সাংবাদিক গোকুল চন্দ্র রায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের ছেলে অয়ন জ্যোতি রায় বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকালেই লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী যিতিন্দ্রনাথ বর্মনের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিক গোকুল চন্দ্র রায় এর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অনেকদিন থেকে যিতিন্দ্রনাথ বর্মন ও তার লোকজন সাংবাদিক গোকুল চন্দ্র রায়কে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে বাড়িতে একা পেয়ে যিতিন্দ্রনাথ বর্মনের ছেলে অনিমেশ বর্মন লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বৃদ্ধ সাংবাদিককে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা সাংবাদিকের গলা চেপে ধরে শ্বাস রোধ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রতিবেশীরা এসে বয়োবৃদ্ধ সাংবাদিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী শাহজাহান আলী জানান, হঠাৎ অভিযুক্তরা দলে বলে এসে হামলা চালিয়েছে। বৃদ্ধ সাংবাদিককে তারা পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গোকুল চন্দ্র রায় জানান, দীর্ঘদিন থেকে আমার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম বড়ুয়া এলাকায় আমার মায়ের নামে থাকা ৪৫শতাংশ জমি বেদখল করে ভোগদখল করে আসছে। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এরই জেরে বিনা উষ্কানিতে হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করেছে। এ ঘটনায় আমার ছেলে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। একজন আটক রয়েছে। আমি হামলাকারীদের বিচার চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাদ আহমেদ জানান, সাংবাদিকের উপর হামলার খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনা স্থানে গিয়ে একজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।