লালমনিরহাটে মাদকের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য ও বিবৃতিতে নয়, এবার পুলিশের সঙ্গে সরাসরি রাস্তায় নেমে অভিযান পরিচালনা করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে এক দৃঢ় আন্দোলন আলোকিত লালমনিরহাট আমাদের অঙ্গীকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৫ জুলাই) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকান, টংঘর ও জনসমাগমস্থলে মাদক বিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন ১৯জনকে আটক করা হলে ডোপ টেস্টে ১৬জনের শরীরে একাধিক মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
জানা গেছে, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুকসহ ৪টি সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শনিবার (৪ জুলাই) লালমনিরহাটে আলোকিত লালমনিরহাট নামক ব্যতিক্রমী একটি সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এ কর্মসূচি প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৫ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী, কুলাঘাট, মহেন্দ্রনগর ও মোগলহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
আলোকিত লালমনিরহাটের লাল জ্যাকেট পরে একটি ইজিবাইকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অভিযান পরিচালনা করেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরা চায়ের দোকান, টংঘর ও জনসমাগমস্থলে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালান। অভিযানে সন্দেহভাজন ১৯জনকে আটক করে ডোপ টেস্ট করা হলে ১৬জনের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই লালমনিরহাট জেলার বাইরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্যের ভিত্তিতে কুলাঘাট এলাকা থেকে ৮৯পিস ইসকাফ ট্যাবলেটসহ ১জন এবং লালমনিরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড থেকে ৫০পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আরও ১জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাদ আহম্মেদ বলেন, মন্ত্রী মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য সদর থানার পুলিশকে সঙ্গে নেন। তিনি নিজের ইউনিয়ন বড়বাড়ীসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবী শনাক্ত ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
আলোকিত লালমনিরহাটের রূপকার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গ্রেফতারই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়; মানুষকে সচেতন করে সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান, তাদের সহযোগিতা করা হবে। তবে কেউ যদি অপরাধে জড়িয়ে থাকতে অনড় থাকেন, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।