লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র দ্বি-বার্ষিক মেয়াদী পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬ (২০২৬-২০২৮) ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লালমনিরহাটের পুরান বাজারস্থ চেম্বার ভবনে এ ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
এবার নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সকাল থেকেই জেনারেল ও এসোসিয়েট ভোটারদের দীর্ঘ লাইন এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৫শত ৭৭জন। তন্মধ্যে জেনারেল সদস্য ৩শত ৯৯জন ও এসোসিয়েট সদস্য ১শত ৭৮জন। নির্বাচনে ভোটের লড়াই শুধু সভাপতি পদে।
লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি নির্বাচন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি-১জন ও সহ-সভাপতি-১জন এবং জেনারেল পরিচালক-১০জন ও এসোসিয়েট পরিচালক ৬জন পদের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
যেহেতু কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলোতে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন, তাই নির্বাচন কমিশন বিধি মোতাবেক শুধুমাত্র সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) পদে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
চেম্বারের শীর্ষ পদের মর্যাদাপূর্ণ এই লড়াইয়ে ২জন হেভিওয়েট ব্যবসায়ী নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হলেন- মোঃ মোকছেদুর রহমান ও মোঃ সেলিম সবুজ।
দুই প্রার্থীই স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে হিসাব-নিকাশ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রার্থীরা সকাল থেকেই কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
ভোট দিতে আসা সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল ৯টার থেকে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়তে শুরু করে। অত্যন্ত সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে তারা তাদের পছন্দের পদপ্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।
একজন সাধারণ ভোটার বলেন, আমরা এমন একজন সভাপতি চাই যিনি লালমনিরহাটের ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্যকে চাঙ্গা করবেন এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাড. রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট গণনা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।