লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হরিদাস উচ্চ বিদ্যালয় ও তুষভান্ডার নছর উদ্দীন বালিকা বিদ্যালয়।
তরুণ প্রজন্মের মেধা, মনন ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করার লক্ষ্যে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বিভিন্ন উপজেলায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচি-এর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (১২ জুন) লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক পৃথক ভাবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের চমৎকার সব সৃজনশীল, আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে।
আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় উপজেলার মোট ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। কঠোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা ৩টি প্রকল্পকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান হিসেবে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রতিযোগিতায় নিজের অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস উচ্চ বিদ্যালয়।
তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি ছিল সমসাময়িক ও অত্যন্ত যুগোপযোগী—বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক সিস্টেম কন্ট্রোলে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। এই অ্যাপের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে গৃহস্থালির বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় হরিদাস উচ্চ বিদ্যালয় আগামী রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিতব্য জেলা পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় আদিতমারী উপজেলার পক্ষে অংশগ্রহণ করবে।
অনুরূপভাবে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রতিযোগিতাতেও মোট ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে অংশগ্রহণ করে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে শিক্ষার্থীদের অনন্য সব প্রজেক্ট বিচারকদের বিশেষভাবে আকর্ষিত করে।
সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রজেক্ট শিল্ড বাংলাদেশ প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে তুষভান্ডার নছর উদ্দীন বালিকা বিদ্যালয়। তাদের এই যুগান্তকারী আইডিয়াটিতে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হাইড্রোফোন সেন্সর, থার্মাল ও সিসমিক সেন্সর এবং অপটিক ফাইবার ব্যারিকেড ব্যবহারের কৌশল দেখানো হয়েছে।
সমাজে অটিজমে আক্রান্ত অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের অনন্য সামাজিক আইডিয়া সাইলেন্ট ক্যাফে প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে তুষভান্ডার মহিলা কলেজ।
কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে বিজয়ী এই প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাও আগামী রোববার (১৪ জুন) জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেদের মেধা মেলে ধরবে।
একটি সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল কারিগর আমাদের আজকের শিক্ষার্থীরা। দেশের সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের আধুনিকায়ন ও সামাজিক উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের এই চমৎকার ব্যবহার ও উদ্ভাবনী চিন্তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জেলা প্রশাসন লালমনিরহাট সর্বদাই তরুণদের এমন সৃজনশীল ও বিজ্ঞান মনস্ক উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং তাদের এই অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন এবং আগামী রোববার (১৪ জুন)র জেলা পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতার জন্য শুভকামনা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত হোক আমাদের আগামী প্রজন্ম।