লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় র্যাব-১৩ এর অভিযানে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানিয়েছেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, মামলার ভিকটিম দশম শ্রেণীর একজন নিয়মিত ছাত্রী। ভিকটিম স্কুলে যাতায়াতের পথে ধৃত আসামি ভিকটিমকে সব সময় ভালোবাসা নিবেদন করতো এবং এক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ইং ২৫/০১/২৬ তারিখ বাদী বাড়ীতে না থাকায় ধৃত আসামি বাদীর বাড়ীতে গিয়ে ভিকটিমকে বিবাহের প্রলোভন দিয়ে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়ের বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং গত ইং ২৫/০১/২৬ তারিখ রাত ৯টায় ভিকটিমের মাথায় হাত দিয়ে বিয়ের শপথ করে সহযোগী আসামির ঘরে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং উক্ত ঘটনা কাউকে জানাতে নিষেধ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি বাদী জানতে পারলে গত ০১/০৩/২০২৬ তারিখ লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০১।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুর এর একটি আভিযানিক দল ০৯/০৩/২০২৬ তারিখ বিকাল ৪টা ১০মিনিটে রংপুর জেলার লালবাগ প্রিয়ন্তী সুপার শপের সামনে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার কেতকীবাড়ী এলাকার মৃত সামছুলের পুত্র মোঃ মামুন (২২)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যাসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’-এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।