শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
স্বপ্নবাজ তরুণ আহসান হাবিবের “হোটেলবয় চিট্টি”

স্বপ্নবাজ তরুণ আহসান হাবিবের “হোটেলবয় চিট্টি”

আলোর মনি রিপোর্ট: সেই ছোট্ট বেলা থেকেই খুঁটিনাটি যন্ত্রপাতি নিয়ে নাড়াচাড়া করতেন আহসান হাবিব। স্বপ্ন দেখতেন একদিন বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো কিছু একটা তৈরি করবেন। কুঁড়েঘরে বসেই সাধনা শুরু হয় স্বপ্নবাজ এই তরুণ আহসান হাবিবের। বিগত ২০১৭ সালেই তার প্রতিভার প্রমাণ দেন স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় রোবট বানিয়ে লালমনিরহাট জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে।
এতে করে তার আত্মবিশ্বাস বাড়লেও জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। কিছুদিন পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তার বাবা মৃত্যু হয়। শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। একদিকে সংসারের ঘানি টানা, অন্যদিকে লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে চলা। দিন-রাত ১২টি টিউশনি করিয়ে ক্লান্ত হয়েছেন কিন্তু দমে যাননি। অবশেষে যান্ত্রিক হোটেলবয় বানিয়ে চমক দেখালেন।
আহসান হাবিবের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত সুন্দ্রাহবি গ্রামে। তার তৈরি হোটেলবয় কথা বলতে ও গ্রাহকের পরিচয় মনে রাখতে পারে। হোটেলে আসা অতিথির সঙ্গে কীভাবে ভদ্র আচরণ করতে হবে, তাও জানে। সৌজন্য দেখিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে করমর্দন ও সালাম দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়ে আপ্যায়ন শেষে বিদায়ও জানাবে সুদর্শন এই যান্ত্রিক হোটেলবয়। এর নাম দেওয়া হয়েছে “চিট্টি”। রোবট নিয়ে আলোচিত ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র চিট্টির নামানুসারে এর নাম দিয়েছেন তিনি।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আহসান হাবিব জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি করিম উদ্দিন পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। টানাটানির সংসারে কিছু করে সঞ্চয় ও ধারদেনার লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ইউটিউব দেখে বানিয়েছেন এই রোবট। এটি তিনি স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর জন্য তৈরি করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই এটি সরবরাহ করবেন।
আহসান হাবিব বলেন, এখানেই থেমে থাকতে চাই না। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও বড় কিছু করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে চাই।
তাঁর মাতা খালেদা খাতুন বলেন, ছেলেটা টিউশনি করে সংসারের খরচ চালায়, এর মধ্যেই যন্ত্রপাতি কিনে রোবট বানানোর কাজ করে। তার প্রতিভার বিকাশের জন্য অর্থ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিবেশী মজনু মিয়া বলেন, হাবিব এলাকার গর্ব। এতো কষ্টের মাঝেও তিনি লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।
সহপাঠী এরফান বলেন, হাবিবের রোবট আমাদের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও ভিন্ন কিছু করার স্বপ্ন দেখছি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, আহসান হাবিব প্রত্যন্ত গ্রামে বসে রোবট বানিয়েছেন। তিনি দেশ ও জাতির গর্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone