শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ মোকছেদুর রহমানের গণসংযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৫টি মামলায় জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কালেক্টরেট কলেজিয়েট স্কুল ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন বিতরণ অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর অকাল মৃত্যুতে জেলা প্রশাসনের গভীর শোক সীমান্ত দিয়ে ৩৪জন নাগরিককে বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা; বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি চরম উত্তেজনা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল র‍্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর ৫বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে লালমনিরহাটের ছয় শহীদদের কথা

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে লালমনিরহাটের ছয় শহীদদের কথা

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ: বাংলার ইতিহাসে বাঙালির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা হলো একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। এখন সেই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের মাস মার্চ। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শরিক হয়েছিলেন।

 

ডিসেম্বর ও মার্চ মাস এলেই আমরা সবাই লালমনিরহাট মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ফলক, রেলওয়ে গণকবরে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি। সবাই একত্রিত হয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই, কিন্তু অনেকেই আমরা জানি না ১৯৭১-এর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বিহারি অবাঙ্গালির হাতে প্রাণ দিয়েছিলেন লালমনিরহাটের থানাপাড়ার একই পরিবারের ৬ (ছয়) জন। এটা অবশ্যই আমাদের সবার জানার দরকার রয়েছে। আমাদের বাঙালির ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

 

প্রথমেই উল্লেখ করতে হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে সে সময় কতজন শহীদ হয়েছিলেন তা সঠিকভাবে বলা আজ কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের মে মাসের পহেলা সপ্তাহে বিহারি অবাঙ্গালির হাতে শহীদ হন লালমনিরহাটের থানাপাড়ার আওয়ামী লীগ কর্মী আজহার আলী-এঁর মা ছালেমুন নেছা, স্ত্রী সিরাজুন নাহার, কন্যা ছায়া, বুলু, মিনু ও কাজের ছেলে (রাখাল)।

 

৫জন শহীদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা ইত্যাদির সন্ধান পাওয়া গেলেও কিন্তু একজনের পাওয়া যায়নি। তবে ৫জনের মৃত্যু এই তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সেই ৫জন শহীদের পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হলো-
(১) মা ছালেমুন নেছা, (২) স্ত্রী সিরাজুন নাহার, (২) কন্যা ছায়া, (৪) বুলু, (৫) মিনু।
শহীদ হয়েছেন ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে
পরিচয় : আওয়ামী লীগ কর্মী আজহার আলী-এঁর মা, স্ত্রী, কন্যা।
ঠিকানা : থানাপাড়া, লালমনিরহাট।

 

প্রাণে বেঁচে গেলেন যাঁরা: আজহার আলী, কন্যা খালেদা খানম, মনোয়ারা খানম আলো, জাহানারা বেগম দুলু ও একমাত্র পুত্র নুর ইসলাম।

 

বেঁচে থাকার গল্প: যেহেতু আজহার আলী একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী। তাঁর প্রতিবেশী জনৈক এক বিহারী হফেজ কামরুদ্দীন (বিহারী লিডার) তাহাকে সর্তক করে বলেন যে, তুমি তো আওয়ামী লীগ করো তোমার কিছু হবে না। তোমার ছেলেটিকে (নুর ইসলাম) কে রাজাকারে ভর্তি করে দাও এবং উল্লেখিত মেয়েদেরকে ভারতে পাঠিয়ে দাও।

 

উল্লেখিত ঘটনা শোনার পর আজহার আলী লালমনিরহাটে থাকা নিরাপদ বোধ করলেন না। তাই তিনি নিজে ৩মেয়ে ও ১ছেলেকে নিয়ে ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে চলে যান। সেখানে শরনার্থী শিবিরে ৯মাস অবস্থানের করে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজ বাড়ীতে ফিরত আসেন। ইতিমধ্যে তাঁর রেখে যাওয়া বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, ৩ (তিন) নাবালক কন্যা ও বাড়ীর কাজের ছেলে (রাখাল) কে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জবাই করে হত্যা করা হয়।

 

তাঁর ধারণা ছিলো যে, বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও নাবালক শিশুদেরকে কেউ হত্যা করবে না। কিন্তু তাঁর ধারণা সবকিছু শেষ হয়ে যায় উক্ত হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে।

 

জীবিতরা কে কোথায়: কন্যা খালেদা খানমঃ ছাত্র জীবনে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসিতে লালমনিরহাট কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে ১৯৬৮ সালে তধ্যানিত্বন রাজশাহী বোর্ডে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি অবসর প্রাপ্ত। ঢাকায় স্বপরিবারের অবস্থান করছেন।

 

কন্যা মনোয়ারা খানম আলোঃ তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ঢাকার একটি কলেজে শিক্ষকতা করে অবসর গ্রহণ করেন। ঢাকায় স্বপরিবারে অবস্থান করছেন।

 

কন্যা জাহানারা বেগম দুলুঃ তিনিও ঢাকায় স্বপরিবারে অবস্থান করছেন।

 

পুত্র নুর ইসলামঃ বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী করে অবসরে আছেন ঢাকাতে।

 

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে লালমনিরহাটের বীর শহীদদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

লেখকঃ সম্পাদক, সাপ্তাহিক আলোর মনি, লালমনিরহাট।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone