লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, ইস্কাপ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গংগারহাট, বালারহাট এবং রামখানা বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, ইস্কাপ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২০:৫৫মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন উত্তর কুটিচন্দ্রখানা এবং রাত ২২:৪০মিনিটে রামখানা বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার পশ্চিম রামখানা ও শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ০১:৫৫মিনিটে বালারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বালাটারী নামক স্থানে পৃথক ৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৪শত ৯৪পিস, ইস্কাপ সিরাপ ২শত ১টি বোতল ও গাঁজা ৬কেজি জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৪শত ৯৪পিস, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৪৮হাজার ২শত টাকা, ইস্কাপ সিরাপ ২শত ১টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৮০হাজার ৪শত টাকা এবং গাঁজা ৬কেজি, যার সিজার মূল্য ২২হাজার ৭শত ৫০টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২লক্ষ ৫১হাজার ৩শত ৫০টাকা। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদক পাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।