লালমনিরহাট জেলা শহরের বাবুপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
গত ১৩ মে সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রেশমা বেগম (৪৩) বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করে।
আহত যুবকের নাম এহছানুল হক রিদয় (২৫)। তিনি লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং এরশাদুল হকের ছেলে।
অভিযুক্ত স্ত্রী উম্মে জান্নাত সাথী (২৬) আদিতমারী উপজেলার উপজেলা রোডের রুহুর কুদ্দুছের মেয়ে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন রিদয় ও তার স্ত্রী। এক পর্যায়ে পূর্ব কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কি লাগে। এ সময় তার স্ত্রী উম্মে জান্নাত সাথী ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন রিদয়। তার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে দ্রুত তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্ত্রী উম্মে জান্নাত সাথীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আহত হৃদয়ের বাবা এরশাদুল হক জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রিদয় ও উম্মে জান্নাত সাথীর বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। তবে গত ১৪ থেকে ১৫ মাস ধরে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নানাভাবে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত উম্মে জান্নাত সাথী। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন একাধিকবার বসেছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বুধবার সকালে আমরা পাশের কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ রিদয়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত গলা চেপে ধরে আছে, আর তার পাশে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে উম্মে জান্নাত সাথী।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ সাদ আহম্মেদ জানান, অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ভুক্তভোগীর মা রেশমা বেগমের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত আসামীকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।