লালমনিরহাটের পাটগ্রামের জোংড়া ইউনিয়ন সীমান্তে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী ও ভারতীদের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে ভারতের শূন্যরেখাস্থলে বিএসএফ এসে ভারতীয়দের সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টা ৫০মিনিটের দিকে লালমনিরহাটের ধবলগুড়ি সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা, সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের উত্তর বর্ডার সীমান্ত এলাকা। অন্যদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার নলনিবাড়ী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার সীমান্ত পিলার ৮৭৩ ও ৮৭৪ নম্বর সংলগ্ন শূন্যরেখা সীমান্তের ভারতীয় অংশের জমি থেকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান ১০-১২ জন বাংলাদেশী। এ সময় এলাকার স্থানীয় ভারতীয়রা ঘাস কাটতে বাংলাদেশীদের নিষেধ করেন এবং সীমান্ত এলাকা থেকে চলে যেতে বলেন। বাংলাদেশীরা ঘাস কেটে নিয়ে যেতে চাইলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ভারতীয়রা মোবাইল ফোনে কল করে তাঁদের গ্রাম এলাকার লোকজনদের ডাকেন। মুহূর্তেই অন্তত ১০০জন ভারতীয় ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। বাংলাদেশীরাও কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের খবর দিলে প্রায় ৫০জন ঘটনাস্থলে যান। এই সময় উভয় দেশের বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেন। ঘটনার খবর জানতে পেরে বিএসএফের ফালাকাটা সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের নাঙ্গলবাড়ী ক্যাম্পের টহল দলের বিএসএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় বাসিন্দাদের দ্রুত দেশের ভেতরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ভারতীয় নাগরিকেরা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভারতের ভেতরে চলে যান। অপরদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর ধরলা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসছে জানতে পেরে বাংলাদেশী লোকজনও দেশের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
ধবলগুড়ি গ্রামের উত্তর বর্ডার এলাকার বাসিন্দা আল জিসান সাকিব বলেন, ভারতীয় সীমান্তের চাষাবাদ না করা জমি থেকে বাংলাদেশীরা পালিত গরুর জন্য প্রায়ই ঘাস কেটে আনেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঘাস কাটতে গেলে ভারতীয় লোকজন তর্ক করে এবং বাধা দেয়। এ সময় দুই দেশের লোকজনদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বহু ভারতীয় লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করার জন্য আসে। বিএসএফ আসায় ভারতীয়রা চলে যায়। না হলে আহত বা নিহতের ঘটনা ঘটত। তবে এর আগে ভারতীয় বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন আমাদের এলাকায় ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিল। আমরা সীমান্তে সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় থাকি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। লিখিতভাবে প্রোটেস্ট নোট (প্রতিবাদ লিপি) দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়াও লালমনিরহাটের ধবলগুড়ি সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে, তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর অধীনস্থ ধরলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৮৭৩/১৫-এস বরাবর শূন্য লাইনের নিকট কয়েকজন নারী ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাংলাদেশী ও ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা ও বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর নালংগিবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তি সাথে সাথেই বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষের স্থানীয় নাগরিকদের শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা সীমান্তবর্তী জনগণের সাথে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছে। স্থানীয় জনগণও বিজিবির প্রতি আস্থা রেখে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহযোগিতা প্রদান করছে, যা সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।