লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চলমান মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, জিরা, চিনি এবং ডিজেল তেল জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ৩টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, জিরা, চিনি এবং ডিজেল তেল জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালানী পণ্য পাচার করবে, উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৫টা ১৫মিনিটে শিমুলবাড়ী বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বানিয়াটারী এবং বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় মোগলহাট বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার চওরাটারী নামক স্থানে ২টি বিশেষ টহল পরিচালনার সময় কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৬.৩কেজি, জিরা ১৬কেজি এবং চিনি ১০কেজি জব্দ করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও, বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার অনন্তপুর নামক স্থানে বিজিবি’র টহলদল সন্দেহজনক ভাবে ড্রামভর্তি ডিজেল তেল পরিবহনে বৈধ কাগজ না থাকায় তল্লাশিকালে ৭৫লিটার ডিজেল তেল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় গাঁজা ৬.৩কেজি, যার সিজার মূল্য ২২হাজার ৫০টাকা, জিরা ১০কেজি, যার সিজার মূল্য ১০হাজার টাকা, চিনি ১০কেজি, যার সিজার মূল্য ১হাজার ৫শত টাকা এবং ডিজেল তেল ৭৫লিটার ৩টি জারিকেনসহ, যার সিজার মূল্য ৯হাজার ৯শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার ৪৩হাজার ৪শত ৫০টাকা। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, ডিজেল তেল ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সব সময় আপসহীন। চোরাচালান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।