লালমনিরহাটে র্যাব-১৩ রংপুর এর অভিযানে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানিয়েছেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার হতে জানা যায় যে, বাদী এবং ধৃত আসামি পরস্পর প্রতিবেশী। বাদীর মেয়ে ভিকটিম নবম শ্রেণীর একজন ছাত্রী। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ধৃত আসামি গোলাপ মিয়া ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গোলাপ মিয়ার বসত বাড়ির শোয়ার ঘরে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের চিৎকারে প্রতিবেশী এবং সাক্ষীরা আসামি গোলাপ মিয়ার বাড়ি থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। তখন কৌশলে আসামি গোলাপ মিয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় আসামি গোলাপ মিয়ার বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-২৮।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি র্যাব-১৩ রংপুর এর একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টা ৫০মিনিটে লালমনিরহাট জেলার ২নং ওয়ার্ড এর নর্থ বেঙ্গল মোড়স্থ দারুস ইহসান প্রি-ক্যাডেট একাডেমির সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে লালমনিরহাট সদর থানার ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি মোঃ গোলাপ মিয়া মিয়া (৩০) ’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সে লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের পশ্চিম আমবাড়ি গ্রামের জোনাব আলীর ছেলে।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামিকে লালমনিরহাট সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি, মাদক চোরাকারবারীসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।