লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চলমান চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানে ভারতীয় মাদক এবং কসমেটিক্স জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ৩টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গাঁজা ও ইস্কাফ সিরাপ এবং নিভিয়া সফট ক্রিম জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ৩০মিনিটে ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার খামারভাতী ও বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১১টা ১৫মিনিটে শিমুলবাড়ী বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বানিয়াটারী এবং মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১টায় রামখানা বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার চান্দেরহাট নামক স্থানে ৩টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৪কেজি, ইস্কাফ সিরাপ ১শতটি বোতল ও নিভিয়া সফট ক্রিম ২শত ৮০পিছ জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় গাঁজা ৪কেজি, যার সিজার মূল্য ১৪হাজার টাকা, ইস্কাফ সিরাপ ১শতটি বোতল, যার সিজার মূল্য ৪০হাজার টাকা, নিভিয়া সফট ক্রিম ২শত ৮০পিছ, যার সিজার মূল্য ৭৫হাজার ৬শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার ১লক্ষ ২৯হাজার ৬শত টাকা। এছাড়াও মাদক ও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। চোরাচালান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।