-মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ :: ফুল হলো সৌন্দর্যের প্রতীক, পবিত্র। তাই ফুলের প্রতি তাঁর অন্য রকম টান। এজন্যই তিনি বাড়ির আঙিনায় ও ফাঁকা জায়গায় লাগিয়েছেন নানা জাতের ফুল। শুধু যে নিজের বাড়িতেই ফুল লাগিয়েছেন, তা নয়। লাগিয়েছেন নিজের পৈতৃক জমিতেও। বর্তমানে তাঁর বাড়ির বাগানে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ১৫২ ফুলের গাছ।
ফুলপ্রেমী এই ব্যাংকারের নাম মোঃ আরিফুজ্জামান রুবেল। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দীঘলটারী গ্রামের মান্নানের চৌপতি এলাকায়। তিনি জনতা ব্যাংক পিএলসি আদিতমারী শাখার অফিসার।

ফুলের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনিয়েছেন ব্যাংকারের নাম মোঃ আরিফুজ্জামান রুবেল। তিনি বলেন, ফুল হচ্ছে পবিত্র, সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুল সবাই পছন্দ করেন। যখন আমি ফুল গাছের পরিচর্যা করি, তখন আমার মন ভালো থাকে। এছাড়া ফুল গাছের নানা উপকারিতাও আছে।
কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শনী: বাংলাদেশ চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শনী হিসেবে ও ব্যক্তি উদ্যোগে মোঃ আরিফুজ্জামান রুবেল ও তাঁর স্ত্রী মোছাঃ মনিরা খাতুন ফসল/ প্রযুক্তি: সূর্যমুখী, জাত: হাইসান-৩৩, গত বছরের ২৫ নভেম্বর স্থাপন করেন। যা রবি/২৫-২৬ মৌসুমে। দুর্গাপুর ব্লকে। জমির পরিমাণ ৩বিঘা। এছাড়াও অন্যান্য ফুল রয়েছে দেড় বিঘা। মোট ফুলের জমির পরিমাণ সারে ৪বিঘা।

ফুলের বাড়ি: মোঃ আরিফুজ্জামান রুবেল ও মোছাঃ মনিরা খাতুন দম্পতির একমাত্র কন্যা শিশুর নাম মোছাঃ আয়শা স্নিগ্ধা ফুল। তাঁর নামানুসারে দীঘলটারী গ্রামের বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছে ফুলের বাড়ি।
ফুলের প্রদর্শনী: আয়শা স্নিগ্ধা ফুলের পৃথিবীতে আগমন উপলক্ষে ফুলের প্রদর্শনী হচ্ছে। এখানে থাকছে- চারটি প্লটে তিনবিঘা সূর্যমুখী ফুলের প্রদর্শনী। ৩২ প্রজাতির শীতের ফুল। ১০০ প্রজাতির গরমের ফুলসহ ২০ ধরনের গোলাপ ও বাগান বিলাস।

ফুলের বাড়ির কথা: লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা ১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের মান্নানের চৌপতি এলাকার মরহুম বেলাল হোসেন ও আজিজা বেগম মাষ্টারের বাড়িটিই এখন ফুলের বাড়ি।
ফুলের বাড়ির পরিকল্পনা ও আয়োজনে: আরিফ রুবেল, (ফুলের বাবা), অফিসার, জনতা ব্যাংক পিএলসি, আদিতমারী শাখা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে: তারিফুজ্জামন রুলিন (ফুলের চাচা)।

ফুলের বাড়ি ঘুরে দেখতে হলে ২০টাকা প্রবেশ মূল্যের টিকেট গ্রহণ করে ঘুরে দেখা সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় হতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষজন ঘুরতে আসছেন। দর্শনার্থীর ঘুরে ঘুরে দেখার পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও করতে দেখা গেছে।
মোঃ আরিফুজ্জামান রুবেল বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে ফুল সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় ও ফাঁকা জায়গায় লাগিয়ে বাগান করেছি। নতুন করে কৃষি বিভাগ থেকে সূর্যমুখী ফসলের হাইসান-৩৩ জাতেরও চাষ করেছি। আগামীতে এ চাষ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে আমার সংগ্রহে আছে দোলন চাপা, বেলী, চন্দ্রপোভা, রঙ্গন, কনকচাঁপা, কাঁঠালচাঁপা, দেশী গন্ধরাজ, জবা, ঝুমকজবাসহ শীত ও গ্রীষ্মকালীন নানা জাতের ফুল।

তারিফুজ্জামান রুলিন বলেন, যারা আমাদের এখানে ফুল দেখতে আসেন, ফুল ভালোবাসেন তাঁদের ও ফুলের বাড়ি সার্বিক তত্ত্বাবধান করছি বড় ভাইয়ের পাশাপাশি। এটি করতে আমারও ভালোলাগে।
মোছাঃ আজিজা খাতুন বলেন, আমার বড় ছেলে আরিফুজ্জামান রুবেলের ফুলের প্রতি অন্য রকম টান আছে। সে দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাড়িতে ফুলের বাগান করেছে। আমিসহ সবাই তাঁর এ কাজকে সহযোগিতা করছি। আমাদের ফুলের বাড়িতে সবাই ঘুরতে আসছেন। এটি ভালো লাগছে।

মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের দর্শনার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ফুলের বাড়ির এমন নান্দনিক উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া ও মূল্যায়ন করা উচিত।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মোঃ মতিউল আলম বলেন, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ৫টি ৩৩ শতকেরসহ মোট ২৩১ শতকের বারি সূর্যমুখী ১, ২, ৩ এবং হাইসান জাতের প্রদর্শণী দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের মান্নানের চৌপতি এলাকার আরিফুজ্জামান ও মনিরা খাতুন দম্পতির সূর্যমুখী বাগানে ফুলের বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে। তারা প্রদর্শনীর পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও এ চাষ করছে। সেই সাথে তাদের বাড়িতে নানা জাতের ফুলেরও বাগান রয়েছে। তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।