শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
সীমান্ত দিয়ে ৩৪জন নাগরিককে বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা; বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি চরম উত্তেজনা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল র‍্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর ৫বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার মোবাইল কোর্টের যৌথ অভিযান ৩টি আইনে ৩টি মামলায় জরিমানা ও কারাদণ্ড লালমনিরহাট যুবদলের আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হাতীবান্ধায় বজ্রপাতে গৃহবধূর আকস্মিক মৃত্যুতে প্রশাসনের শোক ও গভীর সমবেদনা মোগলহাট স্থলবন্দর পুনঃচালুর উদ্যোগ নিতে চাইছে সরকার চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী সুনীল চন্দ্র রায় সহযোগী অধ্যাপক (অবঃ) রেজাউল করিম রেজা-এঁর ইন্তেকাল উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৩টি ক্লিনিকের জরিমানা

সকলের সম্পৃক্ততাই ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে পারে

:: মোছাঃ জেসমিন নাহার বেগম :: “ভোক্তা” সেই ব্যক্তি, যিনি চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্য-সামগ্রী উপভোগ করার জন্য ক্রয় করেন।

 

‘ভোক্তা’ অধিকার আইনে বলা হয়েছে, “ভোক্তা অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি মূল্য পরিশোধে বা মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোন পণ্য বা সেবা গ্রহণ করেন; বা পণ্য ক্রয় করিয়া উহা আত্বকর্ম সংস্থানের মাধ্যমে স্বীয় জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেন।”

 

পরিবহণ, টেলিযোগাযোগ, সুপেয় পানি, জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, নির্মাণ, আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরা, পোশাক, খাদ্য ইত্যাদি মূল্যের বিনিময়ে আমরা (ভোক্তা) গ্রহণ করি। বাস্তবে গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়, ভেজাল মিশ্রিত পণ্য, স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকারক দ্রব্য, অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করা, প্রদত্ত মূল্যের প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা, ওজনে কম দেওয়া, ওজন পরিমাপক যন্ত্রে ভেজাল, নকল দ্রব্য সামগ্রীর কারখানা, সিন্ডিকেট তৈরি করা ইত্যাদি ‘ভোক্তা অধিকার’কে ক্ষুণ্ণ করছে। এই সমস্ত খবরে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়া ছয়লাব। বর্তমানে গত কয়েক মাস ধরে সরকারী কর্মকর্তারা একটু নড়ে চড়ে বসেছেন ফল স্বরূপ, অসৎ ব্যবসায়ী ও অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে।

 

৬ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে প্রণয়ন হলো “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯” (২০০৯ সনের ২৬ নং আইন), যেখানে বলা হয়েছে- “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধ ও তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে- বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন।” উক্ত বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়তার নিরিক্ষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণীত হয়।

বর্তমানে এদেশে শিক্ষিতের হার ৭৪.৬৬%। অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি আমরা কর্মক্ষম ব্যক্তিরা । তবে কী শিক্ষিত কর্মক্ষম ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সুশিক্ষা বা জ্ঞান লাভ হয়নি! আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিৎ; আমাদের কৃতকর্মের অসততার কারণে একটি আইন (ভোক্তা অধিকার) প্রণীত হয়েছে। আমরা সভ্য যুগে বসবাস করি এটা আমাদের বাস্তব দাবি। কিন্তু আমাদের মিথ্যা বা অসৎ কার্যকলাপ আমাকে প্রশ্ন করে “তবে কী সভ্য যুগে অসভ্যের বসবাস?”

 

‘ভোক্তা’ অধিকার আইনের প্রয়োগ অর্থাৎ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাঁড়াশি কার্যক্রম, ভোক্তার অধিকার আদায়ের সক্ষমতা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ও এর কর্মকর্তা কর্মচারী, ছাত্র-জনতার সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ সর্বোপরি আমি ও প্রতিটি ব্যক্তির সৎ মনোভাব ও সৌহার্দপূর্ণ কার্যকলাপ এহেন কলঙ্ক থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারে। মোদ্দাকথা- সকলের সম্পৃক্ততাই ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

 

[লেখক: মোছাঃ জেসমিন নাহার বেগম, সহকারী শিক্ষক, কাজীর চওড়া বি.এল. উচ্চ বিদ্যালয়, মহেন্দ্রনগর, লালমনিরহাট।]

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone