শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ, এবার সাংবাদিককে হুমকি

ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ, এবার সাংবাদিককে হুমকি

লালমানিরহাট জেলা শহরে নিরাময় নামে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এক দিনমজুর অভিযোগ জানালে সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘প্রাণনাশ’সহ ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি পেয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি। একই সঙ্গে তাকে অকথ্য ভাষায় সাম্প্রদায়িক গালাগাল করা হয়েছে। এমনটি জানিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডয়েরি করা হয়েছে।

 

একাত্তরের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক উত্তম কুমার রায় জানিয়েছেন, রোববার (৮ জানুয়ারি) রাত আটটা তিন মিনিটের দিকে নিরাময় ক্লিনিকের মালিক সামসুল আলম পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে গালাগাল ও নানা হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

ডায়েরিতে উল্লেখ, পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় রোববার রাত আটটায় আমার ব্যবহৃত মুঠোফোন দুটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। একটি কল রিসিভ করতেই গালাগাল করা হয়। পরিচয় জানতে চাইলে কলদাতা নিজেকে সামসুল আলম ও নিরাময় ক্লিনিকের মালিক বলে জানান।

 

কেন গালাগাল করা হচ্ছে জানতে চাইলে কলদাতা বলেন, তুই আমার প্রতিষ্ঠান নিরাময় ক্লিনিক সম্পর্কে এতো লেখা-লিখি করিস কেন? তুই লালমনিরহাটের কে? তোকে দেখে নেবো। কথার এক পর্যায়ে তিনি চাঁদাবাজির মামলা দেবেন বলে কলটি কেটে দেন। এমনকি করেন সাম্প্রদায়িক গালাগালও।

 

ডায়েরিতে উত্তম কুমার আরও উল্লেখ করেছেন, এ ঘটনার পর থেকে পরিবারসহ আতঙ্কে আছি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাময় ক্লিনিকে সবিতা রানী নামে এক নারীর অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। তখন ওই রোগীর কাটা পেট সেলাই করে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকে সবিতা ব্যথায় কাতরাতে থাকেন।

 

পরে সবিতার স্বামী দিনমজুর শচীন সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি অভিযোগ করেন। সবিতা রানী বর্তমানে বেড়পাঙ্গার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর এই প্রতিবেদন করতে গিয়ে প্রাণনাশ, দেখে নেওয়াসহ সাম্প্রদায়িক গালাগালের শিকার হন সাংবাদিক উত্তম।

 

আরও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে ২০১৯ সালের ছয় অক্টোবরসহ নানা সময় নিরাময় ক্লিনিকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছিল।

 

২০১৯ সালের ছয় অক্টোরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লালমনিরহাটের নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোসিস সেন্টারের ফারুক মিয়া (২৯) নামে এক রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়।

 

পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

 

পরে ফারুক মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আমরা গরিব ও অর্ধশিক্ষিত মানুষ। সুস্থতার জন্য চিকিৎসকরা যা করতে বলেছেন তাই করেছি। তারা পেটের ভেতর গজ রেখে সেলাই করেছে সেটা তো আমরা জানতাম না। রংপুরে গেলে দ্বিতীয় অপারেশনে গজ বের করা হয়। এ নিয়ে সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ দিতে যাওয়ার কথা শুনে নিরাময়ের মালিক দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপোসের অপচেষ্টা করেছেন। সেদিন এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন ফারুক।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone