লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্তবর্তী আমঝোল এলাকায় বাঘের আক্রমণে নারীসহ ৩জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাঘটিকে শনাক্ত করতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালাচ্ছে বিজিবি। অন্যদিকে, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে কাজ করছে ঢাকা ও রংপুর থেকে আসা বন বিভাগের বিশেষ দল। তবে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বাঘটিকে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আতঙ্ক কাটছে না। বাঘের আক্রমণে নারীসহ ৩জন আহত হওয়ার পর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে রাত-দিন পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঘটিকে শনাক্ত করতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হলেও এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আমঝোল এলাকায় বাঘের আক্রমণে আহত হন শরিফা বেগম, আফসার হোসেন ও নজরুল ইসলাম। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার বিকেলে ধানখেতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরিফা বেগম ছাগলটির কাছে গেলে বাঘের আক্রমণের শিকার হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও ২জন বাঘের হামলার শিকার হন।
ঘটনার পর থেকেই বাঘের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সীমান্ত এলাকার মানুষ। লাঠিসোঁটা হাতে দল বেঁধে পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা। বাঘটিকে লোকালয় থেকে সরিয়ে নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার মধ্যরাতে ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটিকে শনাক্ত করা গেলেও শেষ রাতের দিকে সেটি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে চলে যায়। সোমবারও ড্রোন উড়িয়ে বাঘটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি।
এদিকে, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দলটি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করলেও এখনও বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রংপুর বিভাগীয় বন ও সামাজিক কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, বাঘটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না সীমান্ত এলাকার মানুষের। এখন বন বিভাগের বিশেষ দলের অভিযান এবং বিজিবির নজরদারির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।