লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপসহ মোটর সাইকেল এবং গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গংগারহাট ও গোড়ক মন্ডল বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপসহ মোটর সাইকেল এবং গাঁজা জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ২০:৩০মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার মধ্যটারী নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালে টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটর সাইকেলযোগে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে উক্ত ব্যক্তি মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোটর সাইকেলটি তল্লাশি করে ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ ২শত ৬৩টি বোতল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ১টি হোন্ডা (১২৫সিসি) মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, একই দিন ভোর ৪টা ১০মিনিটে গোড়ক মন্ডল বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার গোড়ক মন্ডল পূর্বটারী নামক স্থানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আসতে দেখে তার গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে উক্ত চোরাকারবারী তার সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৪.২কেজি জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ফেয়ারডিল সিরাপ ২শত ৬৩টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৫হাজার ২শত টাকা, গাঁজা ৪.২কেজি, যার সিজার মূল্য ১৪হাজার ৭শত টাকা এবং হোন্ডা (১২৫ সিসি) মোটর সাইকেল ১টি, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৬৫হাজার টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২লক্ষ ৮৪হাজার ৯শত টাকা। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদক পাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।