লালমনিরহাটে নতুন-পুরাতন হাজীদের পরিচিতি ও দোয়া অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হিজবুল আরাফাত লালমনিরহাট জেলা শাখার আয়োজনে এ পরিচিতি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
হিজবুল আরাফাত লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নিয়াজ আহমেদ রেজা-এঁর সভাপতিত্বে আলহাজ্ব এস এম রফিকুল ইসলাম ও আলহাজ্ব নুরুজ্জামান মিয়া-এঁর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হিজবুল আরাফাত লালমনিরহাট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিরাময় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজি সামছুল আলম, মাওলানা মোঃ হাছান আলী, আলহাজ্ব ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।
ইসলামি মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং হজ পালনকারী হাজিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিচিতি ও দোয়া অনুষ্ঠান।
আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংগঠন হিজবুল আরাফাত জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ হাজিগণ অংশ নেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও হামদ-নাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এ পরিচিতি ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা হজ পরবর্তী জীবনে হাজিদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।
হিজবুল আরাফাত লালমনিরহাট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিরাময় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজি সামছুল আলম বলেন, হজ কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। একজন হাজিকে তার হজ পরবর্তী জীবনেও সেই পবিত্রতার রেশ বজায় রেখে আদর্শ জীবন যাপন করতে হবে।
বিশেষ বক্তা মাওলানা মোঃ হাছান আলী সমাজ থেকে শিরিক ও বেদআত নির্মূল করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি আলোকিত ও শান্তিময় সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হাজিদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাজিরা সমাজের পথ প্রদর্শক। আপনাদের প্রতিটি আচার-আচরণ যেন সমাজে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা থেকে আগত প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে অংশগ্রহণকারী হাজিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন।
নতুন হাজিদের পক্ষ থেকে আলহাজ ওবায়দুল ইসলাম তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে এমন আয়োজনের জন্য সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিশেষে, উপস্থিত হাজি সাহেবদের পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের (মোছাফা) মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।