লালমনিরহাটে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় লালমনিরহাটের রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ মাঠে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন লালমনিরহাট শহর শাখায় সভাপতি মোতালেব হোসেন-এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমনিরহাট-৩ (সদর) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দল সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা অ্যাড. মোঃ আবু তাহের। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ শাহ আলম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ সুজন মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লালমনিরহাট-৩ (সদর) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাড. আবু তাহের বলেছেন, আগামী দিনে আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, মা-বোনদের জন্য নিরাপদ সমাজ উপহার দিব।
জেলা জামায়াতের আমির আবু তাহের বলেন, আমরা দেশ পরিচালনার দ্বায়িত্ব পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশকে চাঁদাবাজ মুক্ত করা হবে। শ্রমিকরা যেন তাদের ঘাম শুকানোর আগে মজুরি পায় সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো টাকা যেন কোনো চাঁদাবাজকে দিতে না হয় সে ব্যবস্থা করা হবে।
আবু তাহের বলেন, লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনকে আধুনিকায়ন করা হবে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস বুড়িমারী থেকে ঢাকা ও ঢাকা থেকে বুড়িমারী যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে। লালমনিরহাট থেকে দেশের সকল জেলায় রেল চলাচলের সু-ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, এলাকায় থাকা বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই কেউ খালি হাতে থাকবে না। আমাদের এলাকায় বেকার কোনো ছেলে-মেয়ে থাকবে না—এটা আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশে এখনও ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। দূর্নীতি, বৈষম্য ও চাঁদাবাজির কারণে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করে তুলছে বলে দাবি করেন জামায়াত প্রার্থী।
আবু তাহের বলেন, যাদের নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্র নেই, তারা রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে—এ বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি দূর্নীতি মুক্ত সরকার, বৈষম্যহীন সমাজ এবং ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দূর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ দূর্নীতির মাধ্যমে অপচয়ের তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ। এই দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যেত।
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আবু তাহের বলেন, নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে এবং সব রাস্তা-ঘাট চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। সার ও বীজ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সবজি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিন।