লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ঝাউরানী বিওপি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ফেন্সিডিল, ফেয়ারডিল ও ভারতীয় গাজাঁ জব্দ করেছে। চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক বিরোধী অভিযানে বিজিবি’র দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা ভারত হতে মাদক পাচার করে সীমান্তের নিকটবর্তী বাড়িতে মজুদ করেছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ৪টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর লালমনিরহাট এবং ঝাউরানী বিওপির টহলদল লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার খামারভাতী গ্রামের একটি বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক তল্লাশীর এক পর্যায়ে গরুর ঘরে মাটির নিচে প্লাষ্টিকের ড্রামের ভিতরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৯শত ৬৪টি বোতল, ফেন্সিডিল ৭২টি বোতল, ফেয়ারডিল সিরাপ ৪১টি বোতল এবং ভারতীয় গাঁজা ৫কেজি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, একই দিন রাত আনুমানিক ৮টা ৩০মিনিটে অনন্তপুর বিওপি’র আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার ভেন্নিরতল নামক স্থানে টহল পরিচালনাকালীন চোরাকারবারীদের গতিবিধি টের পেয়ে টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। চোরাকারবারীদের ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ভারতীয় কিং ফিসার মদ ৪৭টি বোতল এবং টুবর্গ বিয়ার ৬টি বোতল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৯শত ৬৪টি বোতল, ফেন্সিডিল ৭২টি বোতল, ফেয়ারডিল সিরাপ ৪১টি বোতল এর সিজার মূল্য ৪লক্ষ ৩০হাজার টাকা ও ভারতীয় গাঁজা ৫কেজি, যার সিজার মূল্য ১৭হাজার ৫শত টাকা, ভারতীয় মদ এবং বিয়ার ৫৩টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৭৯হাজার ৫শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৫লক্ষ ২৭হাজার ৮শত টাকা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক এবং অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। মাদক পাচার রোধে সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গোপন তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেন।
এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।