শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে ৮জনকে পুশ-ইনের অভিযোগ; ৩ নারী শূন্যরেখায়

সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে ৮জনকে পুশ-ইনের অভিযোগ; ৩ নারী শূন্যরেখায়

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৮জনকে পুশ-ইনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)র বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ট্রেনযোগে ৫জন নারী-পুরুষ দেশের অভ্যন্তরে ঢুকেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে। তবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫জন ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যাপারে কিছু না জানিয়ে ৩জন নারীকে বিএসএফ পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি ক্ষুদে বার্তা (মেসেজ) দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। ওই ৩জন নারী বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

সীমান্ত সূত্র, স্থানীয়রা ও বিজিবি জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩ নম্বরের উপ-পিলার ৯ নম্বরের একদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা। শনিবার ভোরে এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেট (ফটক) খুলে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৮জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় (পুশ-ইন)। সকালে এ ঘটনা বুঝতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসি ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলসূতি ক্যাম্পের টহল দলকে খবর দেয়। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা পুনরায় ৩জন নারীকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়। বর্তমানে ওই নারীরা ভারতীয় সীমান্তের প্রায় ১০০গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন এই দিন রাতে ৮জন নারী-পুরুষকে পুশ-ইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ২জন নারী ও ৩জন পুরুষ বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সকালের ট্রেনে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় পুশ-ইনের শিকার নারী ও পুরুষেরা দাবি করে তাঁদের বাড়ি খুলনা ও নড়াইল জেলায়। বিএসএফ তাঁদেরকে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দেয়।

পাটগ্রামের বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনে পুশ-ইনের শিকার আকরাম হোসেন (৫০), শেখ রাবেয়া (৪০)সহ অন্যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশী দাবি করে বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা থানার বারাসাত গ্রামে ও নড়াইল জেলায় বলে জানায়।

এ ঘটনায় শনিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩ নম্বরের উপ-পিলার ৮ নম্বরের সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬জন ও ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬জন কথা বলেন।

বিজিবি জানায়, এ সময় বিএসএফকে পুশ-ইন করা ব্যক্তিদেরকে দ্রুত ফেরত নিতে বলা হয়েছে। বিএসএফ অধিনায়ক পর্যায়ে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানায়।

এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল শেখ ফজলে মুনিম ও সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, ধবলসূতি বিজিবির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ৩জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। অন্যদের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ নেই। পুশ-ইনকারীদেরকে ফেরত নিতে বিএসএফকে বলা হয়েছে। বিএসএফ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘটনাস্থলের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক রয়েছে। বিএসএফও অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে টহলে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone