লালমনিরহাটে তিস্তা ও রত্নাই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি অভিযান পরিচালনা করেছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।
শনিবার (২০ জুন) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম-এর যৌথ নেতৃত্বে এই অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ২নং স্পার ড্যাম সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এলাকাটি তিস্তা নদীর একদম তীরবর্তী হওয়ায় এবং ইতোমধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয় এলাকাবাসী মেম্বারের তত্ত্বাবধানে ভাঙন ও পানি প্রবেশ রোধে বালু ফেলে রাস্তা উঁচু করার চেষ্টা করছিলেন। তবে নদী থেকে যেকোনো উপায়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। একই সাথে, টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে উক্ত রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বারকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অপর এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে রত্নাই নদী সংলগ্ন বালু উত্তোলনের স্পটে অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল কোর্ট। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত দুষ্কৃতিকারীরা ড্রেজিং মেশিন ভাসিয়ে দিয়ে নদীর অপর পাড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২টি ড্রেজিং মেশিন জব্দ করা হয় এবং তা জনসম্মুখে ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট ও ধ্বংস করা হয়।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।