লালমনিরহাটে জেলা পরিষদ মালিকানাধীন সদর ডাকবাংলা চত্ত্বরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পার্শ্বের বাউন্ডারী ওয়ালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে প্রাচীর ভেঙ্গে বিল্ডিং নির্মাণ স্থগিত করণ এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রসঙ্গে পুনরায় “কারণ দর্শানো নোটিশ” দিয়েছে জেলা পরিষদ কার্যালয় লালমনিরহাট।
লালমনিরহাট সদরের মিশন মোড়ের মোঃ লাল মিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পরিষদ লালমনিরহাট মালিকানাধীন সদর ডাকবাংলা চত্বরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পার্শ্বের সীমানা প্রাচীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিল্ডিং নির্মাণ করায় প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে যায়।
রোববার (১৪ জুন) লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয় লালমনিরহাট সদরের মিশন মোড়ের মোঃ লাল মিয়াকে।
কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয় যে, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জেলা পরিষদ, লালমনিরহাট মালিকানাধীন সদর ডাকবাংলো চতুরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পার্শ্বের সীমানা প্রাচীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিল্ডিং নির্মাণ করায় প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে যায় মর্মে উল্লিখিত সূত্র স্মারকে আপনাকে অবগত করা হয়। পরবর্তীতে আপনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রাচীরের প্রায় ১৫০-০০ অংশ ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে গাইডওয়ালসহ প্রাচীর নির্মাণ করতে উল্লিখিত সূত্রোক্ত পত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণসহ আনুমানিক ৬০লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আপনি জমির সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করে জেলা পরিষদের জমির মধ্যে বিল্ডিং এর ফাউন্ডেশন দিয়েছেন। যার ফলে আপনি জেলা পরিষদের স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করেছেন। যা বিধি বহির্ভূত।
নোটিশে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায়, জেলা পরিষদের সদর ডাকবাংলো চত্বরের গাইডওয়ালসহ সীমানা প্রাচীর এবং নতুন নির্মিত ড্রেইনের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬০লক্ষ টাকা প্রদান এবং জমির সীমানা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে সোমবার (১ জুন) লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ইতিপূর্বে আরও একটি কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয় লালমনিরহাট সদরের মিশন মোড়ের মোঃ লাল মিয়াকে।
এরই প্রেক্ষিতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়ে নিজ খরচে প্রাচীর নির্মাণের অনুমতি চেয়েছে লালমনিরহাটের মিশন মোড়ের মোঃ আশরাফ আলী (লাল)। রোববার (১৪ জুন) লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিনি এ ব্যাপারে লিখিত জবাব দেন।
উল্লেখ্য যে, সীমানা প্রাচীরটি পুরোপুরি ধসে গেছে এবং বিপরীত পাশে বিএনপি কার্যালয়ের দেয়ালটিও ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এদিকে ভেঙ্গে যাওয়া সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় সেই অংশটি ধসে যেতে পারে।