শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক পেলেন লালমনিরহাটের সোনালী দুর্নীতিবিরোধী রচনা, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত শিশু অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার ডিসির গাড়ীও ভাংচুর, এনডিসিসহ আহত অর্ধশতাধিক ভূট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুর মরদেহ উদ্ধার বিএডিসির সেচ কার্যক্রমে বদলে যাচ্ছে লালমনিরহাটের কৃষিচিত্র: এক ফসলি জমিতে এখন তিন ফসলের স্বপ্ন আলোকিত লালমনিরহাট গঠনের লক্ষ্যে মোগলহাটের ৯নং ওয়ার্ড কমিটির অবহিত ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত সম-নাগরিকত্বের প্রসার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নব-নির্বাচিত পরিষদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নব নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ গঠণ কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে নিজ খরচে প্রাচীর নির্মাণের অনুমতি চাইলেন লালমনিরহাটের আশরাফ আলী (লাল)
শিশু অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার ডিসির গাড়ীও ভাংচুর, এনডিসিসহ আহত অর্ধশতাধিক

শিশু অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার ডিসির গাড়ীও ভাংচুর, এনডিসিসহ আহত অর্ধশতাধিক

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার নন্দনী রায় (৭) কে সোমবার বিকাল ৩টায় অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ভূট্টাক্ষেতে পুতে রাখার অভিযোগে আটক শ্রী বিধান চন্দ্র বর্মণ ও তার পিতা রনজিত চন্দ্র বর্মণকে মব তৈরি করে ছিনিয়ে নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর দফায় দফায় হামরা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামানের ফোন পেয়ে জেলা প্রশাক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এদিকে এই ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসি মোঃ নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

মৃত নন্দনী রায় (৭) লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার নলিনী চন্দ্র বর্মণের কন্যা। গত সোমবার বিকাল ৩টা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুজির পরও তার সন্ধান মিলেনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ীর পাশের একটি ভূট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আদিতমারী থানা পুলিশ জানতে পারে নিখোঁজ নন্দিনী রায়ে মরদেহ বাড়ীর পাশের ভূট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দী অবস্থায় পুতে রাখা হয়েছে। আদিতমারী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করতে যায়। আদিতমারী থানার মাধ্যমে খবর পেয়ে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ ক্রাইমসিন, সুরতহাল প্রতিবেদন ও মরদেহ মর্গে পাঠানোর জন্য ঘটনাস্থল যায়। পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সুমা ও সহকারী পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ জানতে পারে স্থানীয় এক ব্যক্তির একটি ঘরে ধান রাখার বাঁশের তৈরি ডুলির ভেতর সন্দেহভাজন প্রধান অভিযুক্ত আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ লুকিয়ে রয়েছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ডিবি। এরপর তার বাবা রনজিত চন্দ্র বর্মণকে আটক করে ডিবি। এক পর্যায়ে চারদিক থেকে উত্তেজিত লোকজন জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে মব তৈরি করে পুলিশের নিকট থেকে সন্দেহভাজন আসামীদের তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। কিন্তু পুলিশ তাদের জীবননাশের আশঙ্কা থাকায় এবং তাদের হাতে তুলে দেয়া বেআইনী হবে বিবেচনায় নিজেদের হেফাজত রেখে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি-সোঠা ছুড়ে মারে। এক পর্যায়ে অবস্থা বেগতিক বুঝে পুলিশ সুপার লালমনিরহাট জেলা প্রশাসককে ফোন করেন। জেলা প্রশাসক পরে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক মেহেদী ইমামের নিকট ফোন করে সহায়তা চান।

‘রনজিৎ চন্দ্র বর্মণের বাড়ীও রক্ষা করতে পারেনি প্রশাসন, পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজ মিলছে না’: বিধান চন্দ্র বর্মণ ও রনজিৎ চন্দ্র বর্মণকে পুলিশ হেফাজতে নিতে পারলেও তাদের বাড়ী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের রক্ষা করতে পারেনি জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রনজিৎ চন্দ্র বর্মণের বাড়ীটি পুলিশ ও বিজিবির তীব্র বাঁধার মুখেই স্থানীয় জনতা গুড়িয়ে দেয় এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় লোকজনের দাবী হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত বিধান চন্দ্র বর্মণ ও তার বাবা পুলিশের হেফাজতে আটক রেেয়ছে। পরিবারের অপর সদস্যরা অন্যত্র আত্মগোপন করেছে।

উশৃঙ্খল জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে আহত এনডিসি আল আমিন বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই চারদিক থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেলের ঢিল আসছিল। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমরা ঘটনাস্থল থেকে লালমনিরহাট ফিরে আসি।

পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় এক শ্রেণির বিক্ষুব্ধ জনতা মব তৈরি করে আটক সন্দেহভাজন মুল আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ ও তার পিতা রনজিত চন্দ্র বর্মণকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য ত্রাসসৃষ্টি করে চাপ দিতে থাকে। আটক ব্যক্তিদের জনতার হাতে তুলে না দিলে পুলিশসহ ডিবির উপর বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়ে উশৃঙ্খল জনতা। এনডিসি আল আমিন ও পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০/৩৫জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত অবস্থায় স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আটক দুই আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া উদভুতো ঘটনার বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভিডিওচিত্র দেখে দেখে অপরাধী চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সরকারি ৬টি গাড়ী ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফলিমারীর ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসি মোঃ নাজমুল হককে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পুলিশ সুপারের ফোন পেয়েই বিজিবিকে পাঠানো হয়। এরপরেই জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট, আমি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টার এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ধৃতদের নিয়ে যেতে সম্মত হয়। এরপর আসামী ও আহত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আসার সময় কিছু লোক বাশ ফেলে বেড়িকেট সৃষ্টি করে এবং ইটপাটকেল দিয়ে ঢিল ছুড়তে থাকে। এতে আমার ও পুলিশ সুপারের গাড়ীসহ ৬টি গাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য রাজনৈতিক পক্ষসহ প্রশাসনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাজিব কুমার সাহা বলেন, এনডিসি আল আমিনসহ পুলিশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কেউ ভর্তি হননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone