লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মোটর সাইকেলসহ ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গংগারহাট বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মোটর সাইকেলসহ ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা ৫০মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার উত্তর কুটিচন্দ্রখানা নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে উক্ত চোরাকারবারী মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৪শত ৪৫পিছ জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, একই দিন উক্ত বিওপি কর্তৃক সন্ধ্যা ৬টা ৩০মিনিটে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বিদ্যাবাগিস নামক স্থানে সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটর সাইকেলযোগে আসতে দেখে তার গতিবিধি লক্ষ্য করে থামার সংকেত দিলে উক্ত চোরাকারবারী মোটর সাইকেল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ২পিছ ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ ১টি মোটর সাইকেল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৪শত ৪৫ পিছ, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৩৩হাজার ৫শত টাকা, সুজুকি ১২৫সিসি মোটর সাইকেল ১টি, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ১০হাজার টাকা এবং ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ২টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৮শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২লক্ষ ৪৪হাজার ৩শত টাকা। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদক পাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।