শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত লালমনিরহাটে উপজেলা চেয়ারম্যান ৭, ভাইস চেয়ারম্যান ১০, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৬জন বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী; ১জন চেয়ারম্যানের মনোনয়নপত্র বাতিল! প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৪ শুভ উদ্বোধন এবং আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তা (ঢেউটিন ও টাকা) বিতরণ অনুষ্ঠিত এমদাদুল সিন্ডিকেটের এক সদস্য গ্রেফতার! সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সাবেক ইউপি সদস্য গুলিবিদ্ধ লালমনিরহাটের ২টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৮জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ লালমনিরহাটের শখের বাজার সড়কের পথচারীরা, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার লালমনিরহাটে বিলুপ্তির পথে ঘুঘু পাখি! একুশ বছর
লালমনিরহাট জেলার কবিতা, ছড়া ও পুথি সাহিত্য

লালমনিরহাট জেলার কবিতা, ছড়া ও পুথি সাহিত্য

জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলির মধ্যে লালমনিরহাট জেলা অন্যতম। ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে পদচারণা আরম্ভ হলেও লালমনিরহাট নামটা ব্রিটিশ শাসনামল থেকে দেশ বিদেশে পরিচিত। নামটার ব্যাপক পরিচিতি ঘটে ব্রিটিশ শাসনামলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১১৬৬.৬৮ একর ভূমির উপর নির্মিত সুবিশাল এয়ারপোর্ট, রেলওয়ে হেড কোয়ার্টার, তিস্তা ব্রিজের কারণে। পরবর্তীতে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত দেশের বৃহত্তম ব্যারেজ, বিখ্যাত তিনবিঘা করিডোর, বুড়িমারী স্থলবন্দর, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ৬নম্বর সেক্টর হেড কোয়ার্টার নামটাকে উজ্জ্বল করে। অতি সম্প্রতি লালমনিরহাট নামটা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন এন্ড এ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটির কারণে।

 

লালমনিরহাট জেলায় বিশেষত্ব শুধু কিছু স্থাপনার জন্য নয়। সাহিত্য ও সাংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রেও এ জেলায় আছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। প্রখ্যাত কবি শেখ ফজলল করিম, লাঠিয়াল ও গ্রন্থ প্রণেতা শেখ রেয়াজ উদ্দিন, কবি যাদব চন্দ্র দাস, গবেষক ধর্মনারায়ণ সরকার ভক্তি শাস্ত্রী, শেখ শাহাদত উল্লাহ, শেখ আমানত আলীসহ অনেক গুণি ব্যক্তির জন্ম এ জেলায়। লালমনিরহাটবাসী তাদের জন্য গৌরববোধ করে। তিস্তা, ধরলা নদী বিধৌত এ জেলার নরম ভূমির উপর বসবাসকারী মানুষগুলো নরম স্বভাবের। ভাওয়াইয়া গানের প্রাণ মাতানো সুর জেলার মানুষকে আনমনা করে। বিয়ের গীত, মেয়েলী গীত জেলার গ্রাম্য মানুষের মনের খোরাক জোগায়। কথায় কথায় প্রবাদ প্রবচন বলা, ছিলকা বলা, হেয়ালী করে কথা বলা, ধাঁ ধাঁ গল্পের আসর বসানো জেলাবাসীর অন্যতম বিনোদন মাধ্যম। আনন্দ প্রিয় ও নরম স্বভাবের হলেও জেলার মানুষ কিন্তু ভীতু স্বভাবের পলায়ন পর নয়। সংকটকালে তারা রুখে দাঁড়াতে পারে, প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে শত্রুর বিপক্ষে লড়তে জানে। ব্রিটিশ শাসনামলের প্রথমদিকে নবাব নুরুল দীন ব্রিটিশ বাহিনীর অগ্রাভিযান ঠেকাতে যুদ্ধ করেছেন এ জেলায় সাপ্টিবাড়ী, মোগলহাট ও পাটগ্রামে। পরাজিত হলেও শেষ পর্যন্ত লড়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তান বাহিনীকে ঠেকাতে ও বিতাড়িত করতে এ জেলার মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল জোড়ালো ভূমিকা।

 

লালমনিরহাট জেলা ভাওয়াইয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ জেলা বৃহত্তর রংপুর জেলার অন্তর্ভূক্ত অঞ্চল বলে জেলার ভাষাকেও রংপুরী ভাষা বলেন অনেকে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রংপুর অঞ্চলের ভাষাকে বঙ্গ কামরূপী ভাষা বলেছেন, লালমনিরহাটের গবেষক ধর্মনারায়ন সরকার ভক্তি শাস্ত্রীয় মতে এ জেলায় ভাষা কামতা বিহারী ভাষা। এ ভাষায় গ্রামের মানুষ কথা বলে। এ ভাষায় রচিত লোক সাহিত্য ও সংগীতের উপাদানগুলোর এলাকাবাসীর প্রিয়। বিশেষ করে ভাওয়াইয়া গান তাদের মনে তন্ময়তা সৃষ্টি করে। জেলার প্রাচীন ভাওয়াইয়া ও লোক সাহিত্য সংগীতের কবিদের পরিচয় মানুষ জানে না। পরবর্তীতে কিছু কবির লেখা ভাওয়াইয়া দেখা যায়। প্রাচীন লোক সাহিত্য ও সংগীতের দৃষ্টান্ত/ প্রবাদে-

১। এটা নিন্দে পেচা/আকাশ নিন্দে তায়
নিজে ভাকুন্দা গালী/ভাতারক কয় ট্যারা।
আঞ্চলিক শব্দ-ভাকুন্দা গালী অর্থ যে নারীর মুখ অস্বভাবিক বড়।

২। ছাওয়ার বাপ না কাঁন্দে/মাও না কাঁন্দে, কাঁন্দে গায়ের নাউয়া
যার বিয়া তার কথা নাই/পরশী কাঁন্দে ফাউয়া।
এ প্রবাদটার আঞ্চলিক শব্দ শব্দ নাডিয়া অর্থ নাপিত ফাউয়া অর্থ অযথা।

মেয়েলী গীত:
১। সস্তা কাটা গুয়ারে যাদুধন, কাচি কাটা পান
কইনার মাওটা নাংধুকরী, কাইঞ্চা বয়া যার নাং।
গীতটার আঞ্চলিক শব্দ গুয়া অর্থ কাচা ও মজা সুপারী, নাং ধুকরী অর্থ নষ্ট চরিত্রের, কাইঞ্চা অর্থ বাড়ির পেছন, নাং অর্থ অবৈধ প্রেমিক।
উপরের দৃষ্টান্তগুলো ছাড়াও আরও অনেক দৃষ্টান্ত আছে যে গুলি কবিতার আকারে লেখা কিন্তু কোন আমলে কার দ্বারা লেখা হয়েছে এলাকাবাসী জানে না। যেমন নিজের প্রাচীন ভাওয়াইটা-
পর্থম যৌবণকালে নাহৈল মোর বিয়া
বাপোক না কও শরমে
সুই মাওয়াক না কঁও লাজে
ধিকি ধিকি তুষের আগুন
জ্বলছে দেহের মাঝে। ১

 

তথ্যসূত্র: ১। চার শতাব্দীর লালমনিরহাট-ড. মুহম্মদ মনিরুজ্জামান পৃ-১০০, প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারী/২০০৮

 

লালমনিরহাট জেলার সেকালের কবিতা: প্রাচীণ কালের পর লালমনিরহাট জেলায় অতীতে কিছু খ্যাতিমান কবির আবির্ভাব ঘটে। তাদের মধ্যে কবি শেখ ফজলল করিম দেশবাসীর কাছে বেশি পরিচিত। আরও যে ক’জন খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে আছেন কবি যাদব চন্দ্র দাস বাণী ভূষণ, কবি ও গবেষক ধর্ম নারায়ণ সরকার ভক্তি শাস্ত্রী ও শেখ শাহাদত উল্লাহ বসুনীয়া। কবি শেখ আমানত আলীও লালমনিরহাটের সেকালের কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি পরিক্রমা ও জাহানারা নামে দু’খানা কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। নিচে চার কবির কবিতা বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১। কবি শেখ ফজলল করিম: কবি স্বর্গ নরক কবিতার জন্য দেশে সর্বাধিক পরিচিত। কবিতাটিতে তিনি মানুষের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ হানাহানি, মারামারি, অসহিষ্ণুতা মারমুখীভাব লক্ষ্য করে লিখেছেন। স্বর্গ-নরক আসলে বেশী দূরে নয়। এ সমাজেই তার অবস্থান। মানুষ যখন আত্মকলহে মগ্ন হয়, সমাজে অশান্তির কারণ হয় তখন তার মন নরক অনলের মত অনলে দগ্ধ হয়। অন্যদিকে প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাধনে পরস্পর মিলে গেলে স্বর্গ সুখ অনুভব করে। কবির কথায় ‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদুর’? মানুষেরই মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর’।
কবি একজন হিতবাদী মানুষ, তিনি আধ্যাত্মিক ভাবেও সমৃদ্ধ। তাঁর তৃষ্ণা, পরিত্রাণ কাব্য নৈতিকতা ও ধর্মীয়ভাব গাম্ভির্যে সমৃদ্ধ। তাঁর কবিতায় যে উপদেশ আছে তা সর্বকালের সকল মানুষের জন্য পালনীয় হিসেবে বিবেচিত। দৃষ্টান্ত:
দুলর্ভ মানব জন্ম পেয়েছ যখন/তরুরর আদর্শ কর জীবনে গ্রহণ
পরার্থে আপন সুখ দিয়ে বিষর্জন/তুমিও হইও ধন্য তরুর মতন ১।
কবি জীবনে অনেক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন, সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ পঞ্চাশের অধিক।

 

২। কবি যাদব চন্দ্র দাস বাণী ভূষণ (১৮৮৫-১৯৩১): যাদব চন্দ্র দাস লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উদাসিন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তিনি। কবিতা লেখার ক্ষেত্রে পারদর্শীতার জন্য তিনি বাণী ভূষণ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তার লেখা কবিতায় দৃষ্টান্ত: নিচের কবিতাটি জমিদার রমনী মোহন রায় চৌধুরীর উদ্দেশ্যে লেখা:
শিক্ষার বিহনে
মানুষ পশুত্ব পায়, তাই নরেশ্বর/ বিনা ব্যয়ে শিক্ষা যাহে পায় দেশবাসী
করিতে বিধান তার হইলো চেষ্টিত/ উচ্চ বিদ্যালয় হেতা করিলা স্থাপন। ২
তার লেখা আরও অনেক কবিতা আছে। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কর্মবীর কাব্য, সাবিত্রি চরিত্র, নীতি মুকুল, বিয়েন্দ্র কুমার কাব্য, কবির লেখা উপন্যাসও আছে।
তথ্যসূত্র: ১। কবিতাটি কবির উপর লেখা ‘প্রেষণ’ পত্রিকা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকাশকাল ডিসেম্বর/২০০২, পৃষ্টা-১০৩।
২। রঙ্গপুরের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব প্রকাশক রঙ্গপুর, গবেষণা পরিষদ, প্রকাশকাল জুলাই/২০০৭, পৃষ্টা: ৫৫১।

 

৩। ধর্ম নারায়ণ সরকার ভক্তি শাস্ত্রি (১৯১৭-১৯৯২): কবি ধর্ম নারায়ন সরকারের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলাধীন তুষভান্ডারের দলগ্রাম গ্রামে। তিনি পেশায় ছিলেন শিক্ষক আর নেশায় ছিলেন কবিতা ও গবেষণা মূলক গ্রন্থ রচনা। তার লেখা উত্তর বঙ্গীয় রাজবংশীয় ক্ষত্রিয় জাতির ইতিহাস, রায় সাহেব পঞ্চালন, উত্তর বাংলার লোক সাহিত্য ও ভাষা খ্যাতি অর্জন করেছে। তার লেখা কবিতার দৃষ্টান্ত:
(ক) ‘সাধন ভঝন তারই মাঝে/স্মরণ পুজন সকল কাজে
তাইতো তোমার দিন ভিখারী/ কেঁদে কেঁদে মরে/এবার প্রভূ কৃপায়
রইছি তোমার দ্বারে ১।
কবির সংগৃহীত একটা প্রবাদ:
‘আগোত আছিনু মোড়লের মাও/এ্যালা গোবর ফ্যালাওঁ আর ভাত খাঁও।২
ভক্তিমূলক কবিতা লেখা ও জীবনে একজন ঈশ^র ভক্ত হিসেবে দিন যাপনের জন্য বিশ^ বৈষ্ণব রাজসভা থেকে তিনি ভক্তি শাস্ত্রী উপাধি পেয়েছেন।
তথ্যসূত্র: ১। গ্রন্থ বঙ্গপুরের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব প্রকাশক বঙ্গপুর গবেষণা পরিষদ। প্রকাশ কাল: মার্চ/২০১৮, পৃষ্ঠা: ৪৭১।
২। উত্তর বাংলার লোক সাহিত্য ও ভাষা-শ্রী ধর্ম নারায়ণ সরকার ভক্তিশাস্ত্রী। প্রকাশ কাল: ২৭ মার্চ/১৩৮২, পৃষ্ঠা: প্রকাশকের কথা।

৪। কবি শেখ শাহাদত উল্লাহ বসুনিয়া: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের যম গ্রামের অধিবাসী শেখ শাহাদত উল্লাহ বসুনীয়া একজন কৃর্তিমান কবি। তিনি টোটকা চিকিৎসাও করতেন। তার কবিতা গুলিতে তার সমসাময়িক কালের অনেক চিত্র ফুটে উঠেছে। তাছাড়া নৈতিক জীবন যাপনে মানুষকে আহবান জানানও তার কবিতায় দেখা যায়। দৃষ্টান্ত: কবির পঞ্চাশের মনন্তর কবিতার অংশ বিশেষ:
(ক) ‘কাল বেশে এল দেশে তেরশো পঞ্চাশ সাল
দুর্ভিক্ষে এ দেশবাসী ধনে প্রাণে পায়েমাল
না খেয়ে না খেয়ে লোক হয়েছে সার কঙ্কাল
স্ত্রী লোক যুবক যুবা শক্তিহীন নাজেহাল।১
(খ) কবির মৃত্যু কবিতা থেকে অংশ বিশেষ-
নশ্বর ভরের খেলা/‘চাহিয়া জ্ঞানের চোখে
বারেক দেখবে, মূঢ় মণ/ সকলি নশ্বর হেতা
সবই.ধ্বংসের পথে/প্রতি পলে যেতেছে কেমন।২
তথ্যসূত্র: ১। শেখ শাহাদত উল্লাহ বসুনীয়ার কবিতা-সম্পাদক/সমর পাল: প্রকাশকাল/১৯৯৫, পৃষ্ঠা-১৮।
২। কবিতাটি সাহিত্য সাধনায় কয়েকজন মুসলিম প্রতিভা- মুহাম্মদ শাহাব উদ্দীন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশ কাল: ডিসেম্বর ২০০৪, পৃষ্টা-১০৪।

লালমনিরহাট জেলায় বর্তমানের প্রবীণ ও নবীণ কবিদের কবিতা:
প্রবীণদের কবিতা: লালমনিরহাট জেলায় যে সকল কবি সুদূর অতীতে লোক সাহিত্য ও সংগীত সৃষ্টি করে যুগের চাহিদা মিঠিয়েছেন তাদের নাম, ঠিকানা অজ্ঞাত। পরবর্তীতে যারা স্বনামে অবদান রেখে খ্যাতি অর্জন করেছেন সেসব অতীতের কবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও তাদের সাহিত্য কর্মের কিছু দৃষ্টান্ত নিচে তুলে ধরা হয়েছে। সমসাময়িককালেও অনেক প্রবীণ ও নবীন কবি কবিতা লিখে, কবিতা গ্রন্থ প্রকাশ করে চলেছেন। প্রবীণ কবিদের নাম ও তাদের ক’জনার কবিতার অংশ বিশেষ নিচে উল্লেখ করা হলো।

১। অধ্যাপক গোলাম রহমানের কবিতা: দ্রাবির থেকে উদ্ধৃিত (ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে লেখা কবিতা)
‘বৃন্তচ্যুত হল ছয়টি ফুল
ওরা তো কৃষ্ণচূড়ায় বৃষ্টিতে ¯œান করেনি
তবুও আজ লাশ কাটা ঘরের শীতল মেঝেতে’।
ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে লেখা খ্যাতিমান শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক গোলাম রহমানের এ কবিতাটা রোদ্দুর পত্রিকা লালমনিরহাটে বইমেলা ২০১২ তে ছাপা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৫। কবি একজন সাহিত্য সাংগঠক, সুবক্তা।

২। অধ্যাপক মোকতার হোসেনের কবিতা:
‘অনেক দিন থেকে পৃথিবীতে আছি
তোমার সাথে তোমার মনমত পৃথিবীতে
আরও কতদিন থাকব জানি না?/তার পর কি হবে তাও জানি না’।
কবিতাটি স্থানীয় স্বর্ণামতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ কাল : ২০১৩, সম্পাদক ফেরদৌসি রহমান বিউটি। বিজয় দিবস সংখ্যা। অধ্যাপক মোকতার হোসেন সাহিত্য সাংস্কৃতির বিভিন্ন পদ অলংকৃত করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াত।

৩। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের কবিতা: (সিডরের ধ্বংস লীলা থেকে)
‘সিডর এসেছিল এবার রাক্ষসের বেশে
লাল চক্ষু দেখিয়ে ঘুরেছে ভীষণ বেগে
প্রচন্ড ক্ষুধা ছিল তার বিশাল পেটে
দিগন্ত প্রসারী এক থাবা মেলে
উপড়ে নিতে চেয়েছিল’…
কবি একজন সাহিত্য- সাংস্কৃতিক সংগঠনক। তার কবিতা বিভিন্ন গ্রন্থ ও পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উপরের কবিতাটি বাদল সাহা সম্পাদিত অষ্টপদী গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী- ২০০৮, পৃষ্ঠা-১২।

৪। অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের কবিতা: (সংবর্ত সময় থেকে)
‘সময়ে দানব দুর্নীতির পদভারে রাজপথ হয় প্রকম্পিত
সময়ে স্ফিত হয় অসৎ আয়ের ব্রিফকেস
সময়ের চোরা বালিতে আটকে পড়ে গড ফাদার খল নেতা
সময়েই মুখোশ খুলে পড়ে দুষ্টের’।
কবি হাবিবুর রহমান স্পষ্টভাষী মুক্তমনের একজন মানুষ। তাঁর কবিতায় সমাজের দুবৃত্তদের বিরুদ্ধে নির্ভয় উচ্চারণ শোনা যায়। কবিতাটি বাদল সাহা সোভন প্রকাশিত গ্রন্থ ‘অষ্টাপদী’ থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশ কাল: ২০০৮, পৃষ্টা ১০, কবির প্রকাশিত দুই খানা কবিতা গ্রন্থ আছে।

৫। সৈয়দ আলী হোসেন মিলনের কবিতা: (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা)
‘তুমি ছিলে অবয়ে বন্দী অনিয়ম/ তোমার মুক্তি উচ্চারণ ছিল নিষিদ্ধ, অন্যায়
শোষণের গর্জনে অশুভ সংকেত হুরের বাসনায়
তোমার সবুজ প্রান্তর কালো মেঘে ছেয়ে যায়’।
সৈয়দ আলী হোসেন মিলন এখন প্রয়াত। তাঁর লেখায় দেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানুষের প্রতি নরপিচাশদের নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠেছে। কবিতাটি সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা লালমনিরহাটে প্রকাশিত হয়। প্রকাশ কাল ১৯৯০, পৃষ্ঠা-৫১।

৬। সমর পালের কবিতা: (বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে)
তোমাকে ভালোবাসী বলে/ আমার হৃদয়ে আজো কাঁচা রক্তের দাগ
আস্তিন গোটানো হাতে তুলেছি ব্যানার/ মিছিলে ঢেলেছি প্রাণ।
কবিতাটা স্বর্ণামতি পত্রিকার, ফেব্রুয়ারী-২০২২ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। পৃষ্টা-১৪

৭। অধ্যাপক আব্দুল মজিদ মন্ডলের কবিতা: ‘যোদ্ধা নির্বিশেষে’ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা)
মুক্তি সেনারা দুর্বার/শপথ হল শত্রু নিধন
আগ্নেয়াস্ত্র কাঁধে অবস্থান /বাংকারে বাংকারে
আধার নেমে এলে/শত্রু ছাউনিতে চলে আক্রমণ।
অপধ্যাপক আব্দুল মজিদ মন্ডল একজন মুক্তিযোদ্ধা। কবিতাটি তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘কল্প পহর’ থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশ কাল : ২০২০, পৃষ্ঠা-৬২।

৮। বজলে রহমান মোস্তাফির কবিতা:
আমরা শিল্পী/যুগে যুগে সেবা দিয়ে জাগিয়ে দিয়ে যাই আনন্দ আপার নব চেতনা।
কবিতাটি সাহিত্য পরিষদ লালমনিরহাট প্রকাশিত পত্রিকায় ১৯৯০ তে প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্ঠা-৪৪।

৯। ডাঃ জাকিউল ইসলাম ফারুকীর কবিতা: (পদ্ম পাতার মতন)
‘কিছুই চাই না আমার/কোন কিছু না
শুধু চোখের সামনে ভেসে থাকো/জলের উপর পদ্ম পাতা যেমন’।
কবির এ কবিতাটি স্বর্ণামতি পত্রিকায় ফেব্রুয়ারি/২০১৫ সংখ্যায় প্রকাশ পেয়েছে, পৃষ্টা-১৭।
কবি পেশায় চিকিৎসক কিন্তু নেশায় গ্রন্থ লেখক। তার লেখা অনেক কবিতা গ্রন্থ পাঠক সমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচিত কবিতা নিয়ে লেখা ‘কবিতা সমগ্র’ কাব্য সকলের মন কেঁড়েছে।

১০। আবদুর রব সুজনের কবিতা: (অনিবার্যতা)
‘আমরা বার বার বিশ্বাসের নামে/সবাই এ জীবনের সাত রংয়া খামে
যেন অবিশ্বাসকেই করেছি লালন
যেভাবে আমাদের পিতা মাতাগণ
থাক্ বা না থাক্ কোন প্রয়োজন/এক দঙ্গল ছেলে মেয়ে করেন পালন-
কবি: আবদুর রব সুজন, কাব্যগ্রন্থা: অরন্য শ্বাপদে দু’মুঠো আতংঙ্ক, প্রকাশকাল- এপ্রিল১৯৮৮, প্রকাশক: চলমান প্রকাশনী, ভূমিকা: গোলাম মঈন উদ্দীন, পরিচালক- বাংলা একাডেমি। প্রচ্ছদ: শিল্পী হাশেম খান। পৃষ্ঠা-১৭
সম্পাদক: কবি: আবদুর রব সুজন, ত্রৈ-মাসিক চলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯৮৪-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত)।

১১। স্বপ্না জামানের কবিতা: (মাতৃভাষা)
‘আমাদের দেশের মিষ্টি ভাষা.বাংলা তাহার নাম
এই ভাষারই মূল্য কত/জানকি তার দাম
বুকের রক্ত দিয়ে যারা/বাঁচাল এই ভাষা
তাদের প্রতি রইল মোদের গভীর ভালবাসা।
কবি সাগঠক পেশায় শিক্ষক। তিনি একজন সাহিত্য সাংগঠক। বিভিন্ন সংগঠনের সাথে তার সম্পৃক্ততা আছে। তার এ কবিতাটি স্বর্ণামতি পত্রিকার ১৯ পৃষ্টায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী-২০১৫।

১২। আশরাফ হোসেন বাদলের কবিতা: (করোনা কার্নিভালের অংশ বিশেষ)।
‘গুজব নিয়ে কি মানুষ বাঁচে/করোনার তাড়ায় যখন সকলেই দিশেহারা
গুজবে কেউ কেউ তৃণভূজি হয়ে যাই/সদ্য জাত শিশু কথা বলে উঠে
খুজি কলো জিড়া, রসুনে প্রতিকার/কোথাও গুজবে অদ্ভূত উপাদান
জীবন বাঁচাতে হলে চলে অবিরাম গো-মুত্র পান’।
কবিতাটি কবির ‘করোনা কার্নিভাল’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। কবি একজন আইনজীবী, সু-লেখক ও সাহিত্য সংস্কৃতি ও সামাজিক সাংগঠক। তার প্রকাশিত অন্য কবিতাগ্রন্থ বুকের ময়ূরের শব, প্রকাশ- ২০১২, গ্রন্থের প্রকাশ কাল/২০২২, পৃষ্ঠা-৩৫। তার অনেক কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়ে চলেছে।

১৩। ফেরদৌসী রহমানের কবিতা: ‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বদেশের মাটির অংশ বিশেষ:
‘তোমার রক্তভেজা মৃত্তিকায় দোলে/শষ্য্যময় জীবনের হাসি
স্বপ্নের নক্ষত্র হয়ে থির থির কাপে/গভীর উজ্জ্বল লাল পতাকার দেশ
সব থেকে প্রিয় পৃথিবীর সৃষ্টে নাম- বাংলাদেশ’।
কবি ফেরদৌসী রহমান বিউটি একজন সু-লেখক। উপরের কবিতাটি তার ‘মেঘ শিশিরের কাব্য’ থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশ কাল/২০১৮, পৃষ্ঠা-৪৬ কবির প্রকাশিত অন্য কাব্যগ্রন্থ ‘নীলাভ বৌদ্রের মোহনায়’। প্রকাশ কাল-২০০৮। কবি একজন সমাজ হিতৈষী ও সাহিত্য সাংগঠক।

১৪। নিশি রায়ের কবিতা: ‘তিস্তা ধরলার কাছে থেকে
‘ঘরে ফেরা নতুন ধানের মচমচে শব্দের/একটা সময়কে তোমার গোলাকে বেঁধে
চোখ রাখি আগামী ভোরে/ নির্ভরা তিস্তা ধরলা জড়ানো
মাটি মানুষের কাছে’।
নিশি রায় একজন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মী। তার অনেক লেখা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তার কবিতায় প্রকৃতি, মানব মানবীর প্রেম প্রাধান্য পায়। কবিতাটি বাদল সাহা সম্পাদিত অষ্টপদী গ্রন্থের ১২ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, কবিতাটি প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী/২০০৮।

১৫। পাগলা জাহাঙ্গীরের কবিতা: (প্রকৃতি বিষয়ক)
কমেছে বন বেড়েছে পশু/খুন-ধর্ষণের শিকার শিশু
কমছে ধার্মিক/বেড়েছে ধর্মশালা/দাঙ্গা ফেসাদ বিশ^ময়।
কবির এ কবিতাটা স্বর্ণামতি পত্রিকার-২০১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্টা-১৫৮।

১৬। মোখলেসুর রহমানের কবিতা: ‘প্রবীণ থেকে নবীন’।
‘যাদের ত্যাগে আজকে মোরা সুস্থ্য সবল
মনে কেন হয় না মোদের/হব মোরাও প্রবীণ’।
কবিতাটি কবির কাব্যগন্থ ‘উপলদ্ধি’ থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশকাল: জানুয়ারি-২০১৪, পৃষ্ঠা-৩।

১৭। হেলাল হোসেন কবিরের কবিতা: ‘ক্ষত দেহ’
‘মানুষের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে
পূর্ণ যৌবণ ফিরে এল
তবে দেহের কিছু ক্ষত চিহ্ন থেকে যাবে।’
স্বর্ণামতি পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা। প্রকাশ কাল: ফেব্রæয়ারি-২০১৫, পৃষ্ঠা-৮৪।

১৮। আজমেরী পারউইন লাবনীর কবিতা: ‘রক্তাক্ত বিজয়’
‘ভাইয়া আর ফিরে এলো না
বুকের রক্তে লিখে গেলো বাংলা
দিয়ে গেল রক্তাক্ত বিজয়’
কবিতাটি স্বর্ণমতি পত্রিকার-২০১৪, সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্ঠা-৬৫

১৯। মাহবুবুর রহমান মনুর কবিতা: ‘ছিট মহল’
‘সমীমের কি সাধ্য অসীমের ক্ষমতা বুঝে
অসীমে বিরাজ তিনি মিছে মরি সব খুঁজে’
স্বর্ণামতি পত্রিকায় ৭০ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী-২০১৯, কবি প্রয়াত।

২০। মাখন লাল দাসের কবিতা: ‘বিমূর্ত অবয়ব’ থেকে-
‘অন্যের সম্ভাবনার দুয়ার খোলার হে কারিগর
হে মধ্য বয়সী যুবক/তোমার মাঝে দেখি আমি
আমার ক্ষয়ে যাওয়া অবয়ব’।
কবিতাংশটা স্বর্ণামতি পত্রিকায় ফেব্রুয়ারী-২০১৬ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে, পৃষ্ঠা-৬৬।

২১। মোস্তফা কামাল চৌধুরীর কবিতা: ‘সতী সীতা থেকে’
‘কতক মানুষ তোমার বুকের উপর করেছে বাড়ি
তুলেছে দালান, দেখে হতাশ হই/হয়তো বা একদিন ফিরে পাবে
তোমার অতীত যৌবন’।
লালমনিরহাট শহরের মাঝ দিয়ে বওয় যাওয়া ছোট নদী ‘সতী’কে নিয়ে লেখা কবিতা। কবি প্রয়াত। কবিতাটি স্থানীয় রোদ্দুর পত্রিকার ৩৩ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে। প্রকাশ কাল-২০০৬।

২২। রাজু রহমান দুলুর কবিতা:
আকাশ সমুদ্র ঝরণায় নয়/এ কান্না একান্ত হৃদয়ের
কবিতাটি স্বর্ণামতি নন্দিনীর ২৪ সেপ্টেম্বর পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে। প্রকাশ কাল-২০১০।

২৩। বাবু মোল্লার কবিতা:
আমাদের চাওয়া/এক সারিতে/দাঁড়িয়ে শ্লোগান দেয়া/
আমাদের চাওয়া/বিপুল সাহসে।
কবিতাটি স্বর্ণামতি পত্রিকার ২৪ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশ পেয়েছে। পৃষ্টা-৫০

২৪। আমিনুল ইসলাম মিঠুর কবিতা:
প্রতিক্ষিত সময় তিমির গাঢ় অন্ধকারে/দেশটা ছিল ঢাকা
আনবে কে অগ্নি শিখা।
কবিতাটি রোদ্দুর পত্রিকার আগস্ট-২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্টা-২৭

২৫। পিকে বিক্রমের কবিতা: (আর দুরে নয়-সেই দিন)
দরজাটা খুলে দাও/দরজাটা খুলে দাও/
মুক্ত আকাশটা দেখিনা অনেক দিন।
কবিতাটা রোদ্দুর পত্রিকায় এপ্রিল-মে-২০০২ সংখ্যায় প্রকাশিত। পৃষ্টা-২০

২৬। বকসী কোরবান আলীর কবিতা:
অতঃপর সারাদিন প্রতিক্ষণ/ভেবে ভেবে জানোয়ার হয়ে যাই
এবং বাঁচার জন্য মরিতে চাই/কিন্তু পারি না।
করি প্রয়াত। তার এ কবিতাটি রোদ্দুর পত্রিকার ৬১তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। পৃষ্টা-৩২।

২৭। মাসুদ রানা রাশেদের কবিতা:
ভাষার জন্য যুদ্ধ হল/ভাষার জন্য রক্ত ঝড়ল/ভাষার জন্য হারালো
বাঙালি জাতির শত প্রাণ/রাখিতে এই বাংলার মান।
স্বর্ণামতি ৫ম সংখ্যা ফেব্রুয়ারি ২০১৫, পৃষ্টা-৮৮।

লালমনিরহাট থেকে আরও অনেক কবির কবিতা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাছাড়া বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আরও কিছু বিশিষ্ট কবির কবিতা রয়েছে যাদের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ না করে শুধু ক’জনার কবিতার বিষয়ে উল্লেখ করা হলো।
কবিদের মধ্যে যাদের লেখা স্থানীয় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন রিয়াজুল হক সরকার, শৌর্য দীপ্ত সূর্য, মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আজিজুল হক বাবু মোল্লা, আমিনুল ইসলাম মিঠু, রাজু রহমান দুলু, এন্তাজুর রহমান, মোহসিনুল হক, রেজাউল করিম মুকুল, মুক্তা লাল রায় ঈশোর, সাদিক ইসলাম, ময়েজুল ইসলাম, আলেয়া ফেরদৌসি, রবীন্দ্র নাথ মিত্র, সাহার আলী, গৌরাঙ্গ মোহন্ত, হেলাল হোসেন কবির, মাসুদ রানা রাশেদ, শামীম আহমেদ, বাদল সাহা শোভন, দেওয়ান হুমায়ুন কবীর, শিথি নাজিলা, লূবনা সুলতানা, অনন্যা গোস্বামী, সুফী মোহাম্মদসহ অনেকের নাম করতে হয়। অনিচ্ছাকৃতভাবে যাদের নাম এ তালিকায় বাদ পরেছে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সমসাময়িক অন্যান্য কবীদের মধ্যে অনেকে কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন অনেকে আবার বিভিন্ন গ্রন্থে বা পত্র পত্রিকায় লিখে চলেছেন। এই কবিদের মধ্যে আছেন জুলফিকার সম্পদ, কাব্য রাসেল, ফারুক আহমেদ সূর্য, জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত, সুলতানা শিরিন, জ্যাকোলিন কাব্য, এস এম হাবিবুর রহমান, সুশান্ত কুমার রায়, অমল কুমার বর্মণ প্রমুখ। এ ক্ষেত্রেও অনেকের নাম হয়তো বাদ পড়েছে। ক্ষমা করবেন এই অনিচ্ছাকৃত বাদ রাখার জন্য।
লালমনিরহাট জেলার প্রবীণ নবীন যারা কবিতা লিখে চলেছেন তাদের কবিতায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট, দেশের মাটি ও মানুষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানুষের লোভ লালসা, অসহিষ্ণুতা, দেশের স্বাধীনতা, রোগ মহামারী, মানুষের নৈতিকতা, নিসর্গ ইত্যাদি বিষয়সহ নরনারীর প্রেম বিরহ নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। হতাশা ও আশা দুটাই আছে কবিদের কবিতায়। সর্বপরি কবিতাগুলিতে মাটি ও মানুষের কথা আছে।

লালমনিরহাট জেলার ছড়া:
লালমনিরহাট জেলার লোক সাহিত্যে উল্লেখ করা প্রাচীন ছড়াগুলোর ছড়াকার কে জানা যায় না। তবে পরবর্তীকালে বিভিন্ন কবির কবিতা থেকে কিছু ছড়া পাওয়া গেছে। যেগুলির কিছু ছড়া কবির নামসহ উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কিছু ছড়াকারের শুধু নাম ও ছড়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তালিকা পরিপূর্ণ ও নির্ভুল এমন দাবী করা যাবেনা। এখানে প্রাচীন ঘুম পাড়ানী ছড়া, বৃষ্টির ছড়া, খেলার ছড়া ও অন্য বিষয়ের ছড়া বাদ দেয়া হয়েছে।

১। কবি শেখ ফজলুল করিমের ঘুম পাড়ানি ছড়া
(ক) চাঁদের বুড়ি থুড়ি থুড়ি/ঘুম দিয়া যা/বাটা ভরা পান দেব
দুই গাল ভরে খা/আমার খোকার দুনয়নে
ঘুম দিয়া যা।
তথ্যসূত্র: কবি শেখ ফজলল করিমের কবিতা সম্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, পৃষ্ঠা-৭৩-৭৪, প্রকাশ কাল-১৯৯০

২। স্বপ্না জামানের ছড়া:
রাজা বলেন একখানি ফুল আমার কিন্তু চাই/মালি বলে, রাজা মশাই ফুল কোথায় পাই।
গ্রন্থ: অষ্টপদী, পৃষ্ঠা-৭৯, প্রকাশকাল ১ ফেব্রুয়ারী ২০০৮।

৩। সোহেল রানার ছড়া ‘ইলশে কখন’
ইলিশ ইলিশ যতই বলিস/পারি তার নাগাল
কিনতে ইলিশ হর হামেশা/হতেই হবে নাকাল
গ্রন্থ: অষ্টপদী, পৃষ্ঠা-৭৪, প্রকাশ ১ ফেব্রুয়ারী ২০০৮।

৪। কামাল চৌধুরীর ছড়া: বাংলা আমার ভাষা
বাংলা আমার মনের ভাষা/বাংলায় বলি তাই
নিজের ভাষায় কথা বলে/আনন্দ যে পাই।
গ্রন্থ: লেখকের উপর স্মারক গ্রন্থ, পৃষ্ঠা-১৩২, প্রকাশ কাল: অক্টোবর-২০১৪।

৫। আবদুল মজিদ মন্ডলের ছড়া: বিস্মৃত প্রাণ
আদ্যিকালের বৈদ্য এসে/নাহিবা করল ধ্যান
আমরা সবাই সোনার দেশে
সুবাশে আছে সবার প্রাণ।
গ্রন্থ: কবির কল্পপ্রহর, পৃষ্ঠা-৮৫, প্রকাশ কাল : ফেব্রুয়ারী ২০২০।

৭। দেলোয়ার হোসেন রংপুরীর ছড়া ‘লালমনি’ (অংশ বিশেষ)
লালমনি লালনা/খোকা যদি জানত
বড় বাড়ি বাড়ি নয়/সেটাও সে মানত।
বড় খাতা খাতা নয়/বললে কেউ মানবে
চাপারহাট চাপা নয়/নিশ্চিত জানবে।
গ্রন্থ: লালমনিরহাট সাহিত্য সাংস্কৃতি সাংসদ সংকলিত গ্রন্থ উঠানে প্রকাশিত ছড়া, প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী ২০২০, পৃষ্ঠা-৬৮

লালমনিরহাট জেলায় অনেকে ছড়া লিখেছেন তাদের মধ্যে: কিছু ছড়াকারের নাম ছড়ার নামসহ উল্লেখ করা হলো। ছাড়াকারদের মধ্যে বাদল সাহা শোভন (মা’কে নিয়ে ছড়া), সহিফুল ইসলাম (দৃষ্টি পড়ে), শ.ম শাহীদ (ভালবাসা-০৬), রোদ্দুর পত্রিকার সেপ্টেম্বর ০৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। সাদিয়া চৌধুরী (বৃষ্টির দিনে ছায়া), পাগলা জাহাঙ্গীর (আকাশ কুসুম) ফেরদৌসি রহমান বিউটি (স্বপ্নে দেখা), হাই হাফিজ (একুশ তুমি), ছড়াগুলি স্বর্ণামতি পত্রিকায় ২০১৯ সংখ্যায় প্রকাশ পেয়েছে। আজিজুল হক বাবু মোল্লা (ছ্যাচড়া এর স্বাধীনতা একাত্তর বিষয়ক), সুশান্ত কুমার রায় (শেকড় সন্ধান), সাহিত্য পরিষদ লালমনিরহাট পত্রিকায় বৈশাখ-১৪২০ সংখ্যায় প্রকাশ পেয়েছে।। নাসিরুল ইসলাম (ছড়া- রোদ্দুর ২১৯), খলিলুর রহমান ইমতিয়াজ (দুটি ছড়া: রোদ্দুর মে-২০০৪), রেজাউল করিম স্বপ্ন পূরণ (রোদ্দুর ৬৭তম সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে)। শাহরিন ফিরুজিম সুহা (প্রিয় বাংলাদেশ), আহম্মেদ লিটন (গোল), রিকে ¦পন (সাম্প্রতিক সেতু), শশ ধর চন্দ্র রায় (জানতে হলে) ছড়াগুলি উঠান লঅলমনিরহাট সাহিত্য সংস্কৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২০। লালমনিরহাট জেলায় শুধু ছড়া নিয়ে কোন গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে কিনা জানা নেই। যদি কারও গ্রন্থ প্রকাশ পেয়ে থাকে তা না জানার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তাছাড়া সকল ছড়াকারের ছড়া উল্লেখ করা গেল না বলেও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

লালমনিরহাট জেলার পুথি:
লালমনিরহাট জেলার গ্রাম্য সমাজে এক সময় বাড়িতে বাড়িতে পুথি পাঠের আসর বসত। পুথিকারদের মধ্যে হেয়াত মামুদের জঙ্গনামা ও শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জুলেখা সকলের জনপ্রিয় ছিল। পুথিগুলো পয়ার ছন্দে লেখা। পড়ার সময় পাঠক ভিন্ন আবেগ দিয়ে সুর করে জোড়ে জোড়ে পড়তো আর শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনত। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের প্রিয় ছিল পুঁথি পাঠ ও শোনা।
হেয়াত মাসুদের জঙ্গ নামার অংশ বিশেষ নিচে উল্লেখ করা হলো:
আর শুন নিবেদন করি আমি বিবরণ।
এই মতি রচিনু পয়াত
ঝাড় বিশিলা গ্রাম চতুর্দিকে যার নাম
পরগনা সুলঙ্গা বাস দুয়ার।
মহরম পর্ব
কিতাব কোরান জানি দেখিলে ইমামের বাণী
খুশী হয় পাপ পরিহরি
রসুলের সাফাত পায় অন্তরালে ভিস্তে যায়
যদি শুনি মন স্থির করি
কবি একটা কবিতায় নিজের সম্পর্কে উচ্চারণ করেছেন-
হেয়াত মামুদ ভনে আম্বিয়া বাণী, আমি না রহিব পুথি রহিবে নিশানী।
তথ্যসূত্র: বাংলা সাহিত্যে রঙ্গপুরের অবদান- মোতাহার হোসন সুফী, প্রকাশ কাল: ফেব্রয়ারি-২০০১, পৃষ্ঠা নং-২৯-৩০।
শাহ মুহম্মদ সগীরের পুঁথি অন্য পুথিকারের পূথি
শাহমুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জুলেখা সুলতানী আমলে লেখা। তখন সুরতান ছিলেন গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ (১৩৮৮-১৪০৯) তার পুথি ছাড়া মধুমালতী ও মনহর পুথি পাঠিত হয় গ্রামে। উপরের পুথি কারদের জন্মস্থান লালমনিরহাট জেলায় নয়। কিন্তু তাদের পুথি গুলি এক সময় খুবই জনপ্রিয় ছিল।
লালমনিরহাট জেলার পুথিকার ও পুথি
লালমনিরহাট জেলায় দু’জন পুথিকারের নাম পাওয়া যায় বিভিন্ন গ্রন্থগারের লেখায়। এই পুথিকারদের মধ্যে একজনের নাম বাজে মোহাম্মদ অন্য জনের নাম বনিজ মামুদ। উভয় পুথিকারের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায় কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায়। ‘বণিজ মামুদ’ ইমাম সাগর নামের পুথি রচনা করেছেন। কিন্তু সে পুথি দুস্প্রাপ্য। তাছাড়া আর একজন পুথিকারের নাম ‘বাজে মামুদ’ তাঁকে বণিজ মামুদের পরের ইমাম সাগর পুথির একজন অনুবাদক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে বঙ্গপুরের অবদান নামের গ্রন্থে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে গ্রন্থকারের কথায় ‘আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ প্রাচীণ পুথির বিবরণ প্রথম খন্ড দ্বিতীয় সংখ্যায় ইমাম সাগর পুথির পরিচয় প্রদান বলেছেন। পুথিটি আবিস্কারের কৃতিত্ব কাকিনার কবি শেখ ফজলল করিমের প্রাপ্য। উক্ত গ্রন্থে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বণিজ মামুদ কাকিনার নিকটবর্তী গোপাল রায় গ্রামের নিবাসী ছিলেন। প্রৌঢ় বয়সে তার মৃত্যু হয়েছিল।
তিনি মুনশী গোছের লোক ছিলেন। তাঁর পুথির দৃষ্টান্ত,
ইমাম সাগর পুথি পড়ে যে জন/অবশ্য দেশের ভেদ পাইবে সে জন।’
পুথিকের এ লেখায় তদানিন্তন সময়ে দেশের পরিস্থিতি কেমন ছিল সম্ভবত তা বলা হয়েছে। কিন্তু পুথি খানি লালমনিরহাট অথঞ্চলে দুস্প্রাপ্য তাই আরও কিছু অংশ তুুলে ধরা সম্ভব হল না। অবশ্য পুথিকার কি উদ্দেশ্যে পুথি লিখে ছিলেন তার কথায় তার উল্লেখ আছে। দৃষ্টান্ত,
করিনু সাইরি (পুথি) বড়ই মুস্কিলে/ইমাম সাগর নাহি মিলে কাকিনা সাগরে
বাঙ্গালা জানে নাঞী পুতি (পুথি) এ নামের /তাহাতে করিনু সেকি (?) কর বারবার
করল এ পচাত্তর মঞ্জিলের পরে দিন/তামাম হইল পুথি জানিয়ে মমিন।১
তথ্যসূত্র: ১। বাংলা সাহিত্যে বঙ্গপুরের অবদান মোতাহার হোসেন সুফী, প্রকাশ কাল- বাংলা একাডেমী ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০১, পৃষ্ঠা-৩৫।

লালমনিরহাট জেলায় পায়ার ছন্দের আর অন্য কোন কবি পুথি লিখেছেন কিনা জানা যায় না তবে দু’একজন কবি শোক গাথা রচনা করেছেন তাতে সে ছন্দের কবিতার উল্লেখ দেখা যায়। নিচে কবি শেখ ফজলল করিম মুনশী মেহেরুল্লার মৃত্যুতে ব্যথিত হয়ে যে শোক গাঁথা বচন করেছিলেন তার অংশ বিশেষ উল্লেখ করা হলো:
নীরব হইল আজি বঙ্গের কানন
চির জনমের মত। আর না শুনিব/সুধা স্নিগ্ধ কলকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত
মর্ম্মগাঁথা: মোল্লেম কন্ধু বাগ্মী পুরুষ মুনশী মোহাম্মদ মেহেররুল্লা সাহেবের স্বর্গাবোহনে লেখা গাঁথা।
শোক গাথাটি সাহিত্য ত্রৈমাসিক প্রেক্ষণে কবি শেখ ফজলল করিম স্মরণে অক্টোবর-ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যসূত্র: পৃষ্ঠা-১৪৯।
এরূপ ভক্তি কবিতা (সংগীত) আমরা দেখতে পাই লালমনিরহাটের কবি ধর্মনারায়ন ভক্তি শাস্ত্রীর একটা কবিতায়। সমবায়ীদের সভায় উদ্বোধনী সঙ্গীত:
বন্দিলাম সভাপতি বান্দিনাম মূল অতিথি…
বন্দিনাম আর যত জন
বন্দি সমবায়ী মত…
জ্ঞানী গুনী কত
হেতা সমবেত প্রতি জনা\
বন্দনা সঙ্গীতটি রংপুর জেলা সমবায় সমিতি সম্মেলনে পঠিত হয়েছে তাং ২৬/০৭/১৯৬৩ইং
বন্দনা বিষয়ক এ কবিতাটা কবি ও গবেষক ধর্ম্ম নারায়ণ ভক্তি শাস্ত্রী- মোঃ আশরাফুজ্জামান মন্ডল থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারি ২০১২ খ্রিঃ, পৃষ্ঠা-৩২।
তার থেকে আর একটা দৃষ্টান্ত দেয়া হল।
শোকার্ত মেল্লেম জাতি কি লিখিব আর/ কোন প্রাণে বুক বাধি কঠিন পষাণে
গাহিব এ মম্মবাণী মরণ সংগীত।
লালমনিরহাট জেলার পুথি লেখক বর্তমানে দেখা যায় না। পুথি পাঠও এখন অতীত স্মৃতি। আমাদের সাহিত্যের এ দিকটা গবেষণার দাবী রাখে।
লালমনিরহাট জেলার অতীত বর্তমানের কবিতা ছড়া ও পুথি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে কোন লেখা উপস্থাপন সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। তারপরেও সাহস করে লেখায় হাত দিয়ে যতটুকু তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে ও কোন কোন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে লেখাটা উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখায় অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে তথ্যের ক্ষেত্রেও প্রদত্ত তথ্যগুলি পর্যাপ্ত নাও হতে পারে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ লেখায় লালমিনরহাটের সকল কবির কবিতা, ছড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমনটা দাবী করা যাবে না। স্থান স্বল্পতার কারণে যারা বাদ পড়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি সব শেষে কামনা ভুল ত্রুটি মার্জনা করে লেখাটা পড়ার।

লালমনিরহাটের কবিতা গ্রন্থ লেখক:
১। শেখ ফজলল করিমের কবিতা: সম্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস
২। পাতা ঝড়ার বেলা: জাকিউল ইসলাম ফারুকী (তার আরও অনেক কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে)।
৩। কল্প পহর: অধ্যাপক আব্দুল মজিদ মন্ডল, প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী-২০২২
৪। রঙ্গিন মেঘের দিন: ‘বুকের ভীতর ময়ুরের শব, বাদল সাহা শোভন, প্রকাশ কাল: ২০১২
৫। অষ্টপদি গ্রন্থ: ও রোদ্দুর পত্রিকা, বাদল সাহা সম্পাদিত ।
৬। সপ্ত বলীন্দ্র: জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত, (তার অন্য গ্রন্থ সদগুরু)
৭। মোস্তফা কামাল চৌধুরী: স্মারক পত্র, প্রকাশ কাল: অক্টোবর/২০১৪
৮। এক মোহনায় তুমি আর আমি: সুলতানা শিরিন। প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারী ২০০৯
৯। এক ভালবাসার দিনে। কাব্য রাসেল, প্রকাশ কাল: একুশে বই মেলা-২০১১
১০। ভাওয়াইয়া: রবীন্দ্রনাথ মিত্র, প্রকাশ কাল: ডিসেম্বর/২০০৩
১১। কবি ও মুক্তিযোদ্ধা, সাহার আলী সম্পাদক, আশরাফুজ্জামান মন্ডল, প্রকাশ কাল: সেপ্টেম্বর/২০১৪
১২। হৃদয় অরণ্যে বৃষ্টি: ফারুক আহমেদ সূর্য, প্রকাশ কাল: ফেব্রুয়ারি-২০১৫
তার অন্য গ্রন্থ (‘লাল সবুজের মহানায়ক ফুল-পাখি-সূর্য)।
১৩। কাব্য জয়, জ্যাকলিন কাব্য, প্রকাশ কাল, ফেব্রুয়ারি-২০২১
১৪। করোনা কার্নিভাল, বাদল আশরাফ, প্রকাশ কাল : ফেব্রুয়ারি-২০২২, (অন্য কাব্য বুকের ভিতর ময়ূরের শব, প্রকাশ-২০১২)।
১৫। ইসলামী সংগীত সমাহার, মোহসিনুল হক, প্রকাশ কাল: অক্টোবর ২০১৮।
১৬। বাসন্তিকা, সম্পাদক, পিকে বিক্রম, প্রকাশ কাল: অক্টোবর-নভেম্বর ২০১৬।
১৭। উত্তরায়ন, সম্পাদক-সুশান্ত কুমার রায়, প্রকাশ কাল, ফেব্রুয়ারী-২০১৫।
১৮। নীলভ রৌদ্রের মোহনায়, ফেরদৌসি রহমান বিউটি, প্রকাশ কাল: ২০০৮
তার অন্য গ্রন্থ- মেঘ শিশির কাব্য- প্রকাশ কাল: ২০১২
১৯। শুধু প্রেম নয়, সাদিক ইসলাম, প্রকাশ কাল-২০১৩
২০। যদি কবি কাঁদে, অনল কুমার বর্মণ, প্রকাশ কাল : গ্রন্থমালা-২০১৫
২১। প্রথম ফুলের ঘ্রান, শশধর চন্দ্র রায়, প্রকাশ কাল একুশ বইমেলা-২০১৭
২২। অরন্য শ্বাপদে দু’মুঠো আতঙ্ক (কবিতার বই), প্রকাশ কাল-১৯৮৮, আবদুর রব সুজন।

প্রবন্ধকার-
মোঃ নজরুল ইসলাম মন্ডল
অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক, সরকারী কলেজ
সহ-সভাপতি সাহিত্য পরিষদ ও সভাপতি রঙ্গপুর
গবেষণা পরিষদ, লালমনিরহাট।

জেলা সাহিত্য সম্মেলন/২০২২
লালমনিরহাট উপলক্ষ্যে ২৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখের অনুষ্ঠানে পাঠের জন্য প্রস্তুতকৃত প্রবন্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone