লালমনিরহাটে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টা ২২মিনিটে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট জেলার সদর এলাকায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোঃ মিজানুর (২০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রংপুর জেলার মডার্ন মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারকৃত মিজানুর লালমনিরহাট জেলার সদর থানাধীন নামা খোলাইঘাট (চিনাতুলি) গ্রামের মোঃ আলতাফ এর ছেলে।
মামলার দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী ঐ কিশোরী একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী । আসামি মোঃ মিজানুর ভিকটিমকে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে দেখা করার কথা বলে। গত ১৪ জুলাই দুপুর ১টা ১০মিনিটে ভিকটিম সরল বিশ্বাসে আসামির সাথে তিস্তা নদীর পাড়ে দেখা করলে আসামি ঐ কিশোরীকে জোর পূর্বক জনৈক মোঃ তাইজুল ইসলাম (৪৭) এর পাটক্ষেতের ভিতর নিয়ে যায় এবং ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিম ডাক চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামি ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে আসামিকে হাতে-নাতে ধরার চেষ্টা করলে আসামি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার সংবাদ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করেন।
এই ঘটনায় গত ১৮ জুলাই ভুক্তভোগী ঐ ভিকটিমের মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানার একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৯)। ঘটনার পরে থেকেই আসামি মোঃ মিজানুর আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এর একটি আভিযানিক দল সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টা ৫০মিনিটে রংপুর জেলার তাজহাট থানাধীন মডার্ন মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে লালমনিরহাট সদর থানার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ মিজানুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, বলাৎকারের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।